মেলবোর্ন, ২২ জুন- বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটি অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাইবার ও ফৌজদারি আইনের অপব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিপিজে জানায়, দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টির শামিল।
সংগঠনটির পর্যালোচনা করা মামলার নথি অনুযায়ী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার সিকিউরিটি আইন-২০২৬, ফৌজদারি মানহানি, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন। অভিযোগের সূত্রপাত হয় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে।
মামলার অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সংবাদগুলো মিথ্যা ও মানহানিকর। একই সঙ্গে দৈনিকটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও তানভীর আলম রিমনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১৮ জুন বগুড়া জেলা পুলিশ রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। তিন দিন কারাবন্দি থাকার পর ২১ জুন আদালত তাকে জামিন প্রদান করেন। একই মামলায় দৈনিকটির প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, নিউজ এডিটর আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়ার দুই সংবাদদাতাকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, একজন সরকারি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার স্পষ্টতই ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি উদাহরণ। তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সংবাদমাধ্যমকে দমন করতে সাইবার আইন ও ফৌজদারি মানহানি আইনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।”
এদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের গ্রেফতারের ঘটনায় অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেছেন, তার পক্ষ থেকে কেউ যেন এ ধরনের পদক্ষেপ অনুসরণ না করে।
সিপিজে জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তারা বগুড়ার পুলিশ সুপার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করতে পারে। ফলে বিষয়টি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।