মেলবোর্ন, ২৩ জুন- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে লটারির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন শিক্ষকদের পদায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলায় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে লটারির আয়োজন করে শিক্ষকদের কর্মস্থল নির্ধারণ করা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার থাকবেন সদস্য-সচিব। এছাড়া কমিটিতে জেলা শিক্ষা অফিসার এবং জেলা প্রশাসক মনোনীত দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভায় বসবে। সভায় শিক্ষক পদায়ন, বদলি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠাতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক পদায়ন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের কথা উঠে আসছিল। নতুন এই লটারি পদ্ধতি চালুর ফলে পদায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত প্রভাব, তদবির ও বৈষম্যের সুযোগ কমবে এবং যোগদানকারী শিক্ষকরা সমান সুযোগ পাবেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই নতুন বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে। ফলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া সব সহকারী শিক্ষককে লটারির মাধ্যমেই কর্মস্থল নির্ধারণ করে পদায়ন করা হবে।