বাংলাদেশে খ্রিস্টানদের মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা ।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা ও ধর্মীয় নিপীড়নের আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান অধিকারবিষয়ক সংগঠন ভয়েস অব দ্য মার্টার্স ইউএসএ (ভিওএম) জানিয়েছে, দেশে খ্রিস্টানরা এখনও নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্য, হামলা ও চাপের মুখে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্বাসী।
ভিওএমের মুখপাত্র টড নেটলটন বলেন, বাংলাদেশে খ্রিস্টানরা সংখ্যায় খুবই কম। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.৩০ শতাংশ খ্রিস্টান। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তারা প্রায়ই বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে অনেক খ্রিস্টান পরিবারকে জনরোষ, হামলা এবং সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানরা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও বিরূপ আচরণের শিকার হন।
বর্তমান সরকার এবং ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন নেটলটন। তিনি বলেন, সরকার বহুবার বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই সমানভাবে বসবাসের অধিকার রাখে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এই বার্তা অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক খ্রিস্টান বিশ্বাস করেন যে তাদের সম্প্রদায় এখনও সমাজের মূলধারার বাইরে অবস্থান করছে। ফলে স্থানীয় বিরোধ বা উত্তেজনার সময় তারা সহজেই বৈষম্য ও নির্যাতনের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন।
এদিকে প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধিও বাংলাদেশের খ্রিস্টানদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
টড নেটলটন বলেন, হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূল দর্শন হলো ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বাংলাদেশের কিছু খ্রিস্টান আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের মতাদর্শ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বাস চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের খ্রিস্টানদের জন্য প্রার্থনা ও আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।