মোংলায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, নারী-পুরুষসহ ৭ জন আহত
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- মোংলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী-পুরুষসহ সংখ্যালঘু এক পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের…
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোলেও তা দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন, নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার এবং নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উভয় দেশ শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে একমত হয়। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাব কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এমওইউ সংশোধনের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান
বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। এ অবস্থায় নতুন এমওইউ স্বাক্ষরের পরিবর্তে বিদ্যমান এমওইউ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সমঝোতা স্মারক করতে দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন চুক্তি হলে শ্রমবাজার খুলতে আরও বিলম্ব হতে পারে।
জানা গেছে, দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান এমওইউ পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নিয়োগ কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ করবে। তবে বাংলাদেশ চাইছে বিদ্যমান চুক্তিতেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে দ্রুত শ্রমিক পাঠানোর পথ তৈরি করতে।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরও বলেছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই দেশই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে এগোচ্ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চায় দুই দেশ
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়ায় আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে এমনভাবে সাজানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে এবং শ্রমিকদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ, প্রতারণা বা অমানবিক আচরণের শিকার হতে দেওয়া হবে না। তিনি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কেন বারবার বন্ধ হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার চেয়ে বন্ধ থাকার সময়ই বেশি। নব্বইয়ের দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে শ্রমবাজার চালু ও বন্ধ হওয়ার ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। পরে ২০১৫ সালে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ২০১৬ সালে আবার শ্রমিক যাওয়া শুরু হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে আবারও নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য নতুন এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে শ্রমিক পাঠানো শুরু হলেও ২০২৪ সালের মে মাসে আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়। সেই বন্ধ অবস্থাই এখনো বহাল রয়েছে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৪টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া শ্রমিক নিয়োগ করলেও শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই বারবার এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সিন্ডিকেট নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ
শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বারবার উঠে এসেছে নিয়োগ সিন্ডিকেটের অভিযোগ। ২০২১ সালের এমওইউ অনুযায়ী বাংলাদেশ সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠাবে এবং সেখান থেকে মালয়েশিয়া নির্ধারণ করবে কোন এজেন্সিগুলো শ্রমিক পাঠাতে পারবে।
২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রায় দেড় হাজার এজেন্সির তালিকা দিলেও মালয়েশিয়া মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে অনুমোদন দেয়। কী ভিত্তিতে এ নির্বাচন করা হয়েছিল, তার কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা কখনো দেওয়া হয়নি। ফলে ওই ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ ওঠে।
এর আগেও ২০১৫ সালে মাত্র ১০টি এজেন্সিকে শ্রমিক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তখনও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।
শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
অভিবাসন খাতের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি হিসাবে একজন কর্মীর বিদেশযাত্রার ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে।
২০২২ সালে একজন কর্মীর ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, অনেক কর্মীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি আদায় করা হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করে মালয়েশিয়ায় গিয়েও বহু কর্মী প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। অনেককে ভুয়া চাহিদাপত্র দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত মধ্যস্বত্বভোগী, বিদেশি নিয়োগদাতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও ওঠে।
আগামী মাসে ঢাকায় আসতে পারেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী
শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানানের ঢাকা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শোষণ, বৈষম্য ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনমুক্ত করার লক্ষ্যে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে।
তার মতে, সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।
টেকসই সমাধানের দাবি
জনশক্তি রপ্তানিকারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শ্রমবাজার খুললেই হবে না, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর হঠাৎ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার বন্ধ না হয়ে যায়।
তাদের মতে, বিদ্যমান এমওইউতে থাকা এজেন্সি নির্বাচন ও অটো-রোটেশন সংক্রান্ত বিতর্কিত শর্তগুলো সংশোধন করা গেলে সিন্ডিকেটের প্রভাব অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া যখন অন্য দেশ থেকে শ্রমিক নেবে, তখন বাংলাদেশ থেকেও একইভাবে নিয়োগ চালু রাখার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক হলেও নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার, সিন্ডিকেটের প্রভাব কমানো এবং নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করতে আরও সময় লাগবে। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই খুলে যাচ্ছে, এমন আশা করার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au