জাপানেও শক্তিশালী ভূমিকম্প, বুলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেঁপে উঠেছে পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জাপানের বিখ্যাত বুলেট ট্রেন পরিষেবা।
জাপান টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার উত্তর-পূর্ব জাপানে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৯। তবে শক্তিশালী কম্পন সত্ত্বেও সুনামির কোনো আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা জারি করা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের পরপরই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে নামে প্রশাসন এবং জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করা হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশটির মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা এক বিবৃতিতে বলেন, ভূমিকম্পের ফলে বড় ধরনের সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় জাপানে বড় ধরনের কম্পনের পর পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় অস্বাভাবিকতা কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুজি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূগর্ভের প্রায় ৫১ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি (জেআর ইস্ট) দ্রুত বুলেট ট্রেন চলাচল স্থগিত করে। রাজধানী টোকিও থেকে উত্তরাঞ্চলের শিন-আওমোরি পর্যন্ত চলাচলকারী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে রেললাইন, সেতু বা অন্যান্য অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থান করায় দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা এবং কঠোর নির্মাণমানের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও সতর্কতা তৈরি হয়।
সর্বশেষ এই ভূমিকম্পের পরও দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং জরুরি সেবা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।