লোডশেডিং মোকাবেলায় বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ, জনদুর্ভোগে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা…
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে ৩০ জুন জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শর্তসাপেক্ষে করপোরেট কর কমানো, ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স কমানো এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করহার হ্রাসের মতো একাধিক সিদ্ধান্ত।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে করপোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্ত। প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হলেও চূড়ান্ত বাজেটে শর্তসাপেক্ষে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড় দেওয়া হতে পারে। সরকারের আশা, এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং শিল্প খাত আরও গতিশীল হবে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে, তাদের করহার ২০ শতাংশ। সাধারণ কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশ। তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের করহার ৪৫ শতাংশ এবং মোবাইল অপারেটরদের ক্ষেত্রেও ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কর রয়েছে।
চূড়ান্ত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ই-টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে বলে জানা গেছে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএন প্রয়োজন হবে না।
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্যও স্বস্তির খবর রয়েছে। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। চূড়ান্ত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হতে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরবর্তী কয়েক অর্থবছরে ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্সও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হচ্ছে। চূড়ান্ত বাজেটে এটি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে। অর্থাৎ আয়কর নথিতে উল্লেখ থাকা স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকার বিক্রি করে যে মূলধনি মুনাফা হবে, তার ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হবে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, কর ফাইলে অঘোষিত সম্পদ বৈধ করার জন্য অনেকেই বাস্তবে না থাকা স্বর্ণের তথ্য দেখান। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার রোধ করতেই স্বর্ণ বিক্রির ওপর গেইন ট্যাক্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে করের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
চূড়ান্ত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, প্রকৌশল কলেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করহারও ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, এতে উচ্চশিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সুযোগ পাবে।
এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা থেকেও সরে আসছে সরকার। ব্যবসায়ীদের আপত্তি ও সমালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু ক্ষেত্রে মাসিকের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে।
পুঁজিবাজারের স্বার্থে লভ্যাংশ আয়ের ওপর ২০ শতাংশ করহারও আগের মতো বহাল রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ করব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা থাকলেও চূড়ান্ত বাজেটে তা আর কার্যকর করা হচ্ছে না।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ করদাতাদের ওপর করের চাপও সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের সময় এসব সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au