মেলবোর্ন,১ জুলাই- ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলি জেলার ওষুধ ব্যবসায়ী দেবরাজ মালিকের একমাত্র ছেলে আয়ুষ মালিক, যিনি কয়েক সপ্তাহ আগে ইসলাম গ্রহণ করে নিজের নাম মোহাম্মদ আলী রেখেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন, এবার আবার হিন্দুধর্মে ফিরে এসেছেন। পরিবারের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তাকে নিজ বাড়িতে পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে এবং পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভিডিওতে আয়ুষ মালিক একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। সেখানে তিনি বলেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তবে পরিবারের কষ্ট এবং বিশেষ করে মায়ের দুঃখ দেখে নিজের ইচ্ছায় আবার পূর্বের ধর্মে ফিরে এসেছেন। তিনি বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান বলেও উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, আয়ুষ পরিবারের মন্দিরে পূজা ও আরতিতে অংশ নিচ্ছেন। তার বাবা দেবরাজ মালিক ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছেলে আবার সনাতন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বৈদিক ঐতিহ্যে ফিরে আসায় তিনি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, তাদের কাছে সনাতন ধর্ম শুধু একটি ধর্ম নয়, বরং সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি জীবনধারা।
চলতি মাসের শুরুতে ঈদের নামাজ আদায়ের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর জানা যায়, আয়ুষ ইসলাম গ্রহণ করে নিজের নাম মোহাম্মদ আলী রেখেছেন এবং চাঁদনি কুরেশি নামে এক নারীকে বিয়ে করেছেন।
ঘটনার পর কয়েকটি হিন্দু সংগঠন আপত্তি জানালে উত্তর প্রদেশের অবৈধ ধর্মান্তর নিষিদ্ধ আইন-এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ চাঁদনি কুরেশি ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে। আয়ুষের পরিবারের অভিযোগ ছিল, পরিকল্পিতভাবে তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এবং পরিবারের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে একটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চাঁদনি কুরেশিসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়।
তবে এই ঘটনার আগে আয়ুষ মালিক একাধিকবার দাবি করেছিলেন যে, তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তার ভাষ্য ছিল, ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। প্রায় চার বছর আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নিজের সিদ্ধান্তে চাঁদনি কুরেশিকে বিয়ে করেন।
সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে আয়ুষ আবার হিন্দুধর্মে ফিরে আসার ঘোষণা দিলেও, এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে নতুন করে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি উত্তর প্রদেশজুড়ে আবারও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।