মেলবোর্ন,১ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ে ও নারীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্স নারীদের (রূপান্তরিত নারী) অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে করা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক আইন বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যের আইনকে বৈধ ঘোষণা করে জানিয়েছে, এসব আইন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী আইন বা সংবিধান লঙ্ঘন করে না।
বার্তা সংস্থা এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সেইসব রায় বাতিল করেছে, যেখানে ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলা হয়েছিল যে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা টাইটেল নাইন আইন এবং সংবিধানের সমান আইনি সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইডাহোর আইনে সরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া দলগুলোকে ‘জৈবিক লিঙ্গ’ বা বায়োলজিক্যাল সেক্স অনুযায়ী ভাগ করার নির্দেশনা রয়েছে। এসব আইনে জৈবিকভাবে পুরুষ হিসেবে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীদের নারী ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আরও অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে। ফলে এই রায় দেশজুড়ে নারী ক্রীড়া নীতিমালার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নয় সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে (৯-০) রায় দেন যে, এসব আইন শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধকারী টাইটেল নাইন আইন লঙ্ঘন করে না। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সমান আইনি সুরক্ষা নিয়ে বিচারপতিদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দিয়ে বলেন, আইনগুলো সংবিধানেরও পরিপন্থী নয়।
অন্যদিকে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, বিশেষ করে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলায় কিছু বাস্তবিক বিষয় নিয়ে বিরোধ থাকায় এ পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত হয়নি।
রায়ে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ বলেন, টাইটেল নাইন এবং সংবিধানের সমান আইনি সুরক্ষার বিধান অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলো নারী ও কন্যাদের জন্য আলাদা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সংরক্ষণ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান কিংবা টাইটেল নাইন কোনোটিই অঙ্গরাজ্যগুলোকে নারী ক্রীড়ায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে জৈবিক লিঙ্গের পরিবর্তে অন্য কোনো মানদণ্ড গ্রহণে বাধ্য করে না।
এদিকে মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইডাহোর পক্ষে অবস্থান নেয়। প্রশাসনের দাবি, নারী ক্রীড়ায় প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করতেই এই আইন প্রয়োজন।
এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার অধিকার ও নারী ক্রীড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের অনুরূপ আইন এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স