এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র
মেলবোর্ন,১ জুলাই- আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে…
মেলবোর্ন,১ জুলাই- রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড হোটেলে প্রায় আট মাস অবস্থান করে ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, দুটি কক্ষের বিপরীতে তাদের কাছে প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা বকেয়া রয়েছে। এ অভিযোগ নিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করছে দলের শৃঙ্খলা কমিটি।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এনসিপির কয়েকজন নেতা রাজধানীর ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর দুটি কক্ষ ব্যবহার করেন। প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলীয় পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বিভিন্ন সময় আশ্বাস দেওয়া ছাড়া অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পরে একদিন তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। এরপর কক্ষের তালা ভেঙে পরিষ্কার করে নতুন করে ভাড়া দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হোটেলের অভিযোগপত্রে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন এবং তাওসীপ-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন নেতা নিয়মিত ওই কক্ষগুলো ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি কক্ষে বহিরাগতদের আনাগোনা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও আনা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
হোটেলটির হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল বলেন, আট মাস অবস্থানের পরও কক্ষভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, বকেয়া আদায়ের জন্য একাধিকবার বৈঠক করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ দিয়েও সমাধান না হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, হোটেল ভাড়ার বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে সাদেক মির্জা বলেন, ওই হোটেলের দুটি কক্ষে কয়েকজন অবস্থান করতেন, তবে ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি অবগত নন। আন্দোলনের সময় কয়েকবার সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কক্ষ দুটি তার নামে বুকিং করা হয়নি। তিনি স্বীকার করেন যে, মাঝে মাঝে সেখানে অবস্থান করেছেন। তবে ভাড়া পরিশোধের দায়িত্ব যার ছিল, বিষয়টি তারই জানা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে মিরাসাত হোসেন হিমেল দাবি করেন, তিনি ওই হোটেলে গিয়েছেন কি না, তা তার মনে নেই। অভিযোগটি কে করেছেন, সেটিও জানতে চান তিনি।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দলের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ওপরই বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au