দুর্নীতির অতল গহ্বরে ইউনূস সরকার: শেখ হাসিনার সতর্কবাণী ও আজকের বাস্তবতা
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ঘিরে যে তথাকথিত ‘আদর্শিক আভিজাত্য’ ও পরিবর্তনের স্বপ্ন ফেরি করা হয়েছিল, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আজ সেই অধ্যায়ের…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই: বাংলাদেশে মে মাসের তুলনায় জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS)। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সংঘর্ষের অন্তত ৫৮টি ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। এর আগের মাস মে-তে ৬৪টি ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনে সংঘটিত ৫৮টি রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ২১টি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং প্রায় ১৪৬ জন আহত হন।
এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৮টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হন।
অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে আরও ২ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সংঘর্ষের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং চাঁদাবাজি প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় ৯ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন বিএনপির এবং ৩ জন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ব্যক্তিগত বিরোধ, ধর্ম অবমাননার অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে সংঘটিত গণপিটুনির ৬৩টি ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে দায়িত্ব পালনকালে গণপিটুনির ২৯টি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬৬ সদস্য আহত হয়েছেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস। জুন মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ৫টি ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে ২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অন্তত ৭ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৪০০ জনের বেশি মানুষকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের পৃথক ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। জুন মাসে অন্তত ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১০৬ জন নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৯৪ জন নারী ও কিশোরী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতনের ঘটনায় ৪ জন নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া যৌতুকের কারণে আরও ২ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au