দুই বছরে বন্ধ হয়েছে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা, ঝুঁকিতে আরও শত শত প্রতিষ্ঠান
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- দেশে গত দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট, উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের মাধ্যমে তাঁকে লা গুয়েরা শহরের একটি ধসে পড়া নয়তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকারীরা ঘটনাটিকে ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্ধার হওয়া হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস লা গুয়েরা অঞ্চলের একটি শপিং মলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ভবনটি ধসে পড়লে তিনি শপিং মলের পার্কিং এলাকায় প্রায় ২৯ ফুট উঁচু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। এরপর টানা কয়েক দিন ধরে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় চিলির ফায়ার ব্রিগেডসহ একাধিক আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ ৭০ ঘণ্টার জটিল উদ্ধার অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, আট দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। উদ্ধার করার পরপরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে বুধবার। সেদিন ধসে পড়া ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশে একটি বিশেষ সার্চ ক্যামেরা পাঠানো হয়। ওই ক্যামেরার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ফ্লোরেসের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে চিলির ফায়ার সার্ভিস প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কংক্রিট ও ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে আটকে থাকা ফ্লোরেস একটি ছোট ফাঁক দিয়ে আঙুল নেড়ে উদ্ধারকারীদের সংকেত দিচ্ছেন।
উদ্ধারকারী দল জানায়, তাঁর অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়। সরু পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে তাঁর কাছে পানি, তরল খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল, যাতে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বেঁচে থাকতে পারেন।
উদ্ধারের আগে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ফ্লোরেসের মাথা ও কাঁধের একটি অংশ দৃশ্যমান। সে সময় তাঁর মুখে অক্সিজেন মাস্ক ছিল এবং দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে তাঁর চোখ রক্তবর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
ফ্লোরেসের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস উদ্ধার অভিযানের আগে গণমাধ্যমকে জানান, ভূমিকম্পের পর থেকে তিনি চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী আর বেঁচে নেই। পরে জীবিত থাকার খবর পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখেন।
তিনি বলেন, ‘যখন জানতে পারলাম ও বেঁচে আছে, তখন মনে হলো সবকিছু আবার ফিরে পেলাম। ও বীরের মতো লড়াই করে টিকে ছিল।’ তিনি আরও জানান, তাঁদের সন্তানরা অধীর আগ্রহে বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষা করছে।
চিলির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনটি অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় থাকায় উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকর্মীদের ওপর বারবার কংক্রিট ও ইট-পাথরের খণ্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই ধাপে ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফ্লোরেসকে উদ্ধার করতে হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় দলের সদস্য সেবাস্টিয়ান মোকরকুয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভূমিকম্পের সাত বা আট দিন পর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা অত্যন্ত বিরল এবং একে অলৌকিক ঘটনাই বলা যায়। তাঁর ভাষ্য, সাধারণভাবে ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময়কে ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়। এরপর শরীরে পানিশূন্যতা, খাদ্যের অভাব এবং আঘাতের কারণে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে আসে।
তবুও সব প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেসের জীবিত উদ্ধার হওয়া উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে এক বিরল ও আশাব্যঞ্জক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au