পেনাল্টি মিসে প্রশ্নের মুখে মেসি, আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্ত কি বদলাবে?
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে যেন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে লিওনেল মেসির কিংবদন্তি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই : নির্বাসিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যারও আশঙ্কা রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান।
তিনি বলেন, “ফিরে গেলে আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি আমাকে হত্যা করা হতে পারে। তবুও আমাকে ফিরতেই হবে।” তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বর্তমানে ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, যদি মৃত্যুই আসে, তবে সেটি তিনি নিজের জন্মভূমিতেই চান, যেখানে তাঁর বাবা-মা সমাহিত আছেন।
শেখ হাসিনা জানান, তিনি এবং তাঁর দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি এবং কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সেটিও উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে জনগণ নিজেরাই বুঝতে পারবেন আদালতের কার্যক্রম কতটা ন্যায়সঙ্গত বা প্রহসনমূলক।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি ভারত বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি।
তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। তবে তিনি বলেন, “আমি নিজেই দেশে ফিরে যাব।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। এর আগে ভারত জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ তারা পর্যালোচনা করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মত দমন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাসন থেকে অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে, আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? যদি আমরা খারাপ করে থাকি, সেই বিচার জনগণই করবে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতে পারে, তবে কোনো সরকারের ভালো-মন্দের চূড়ান্ত বিচার করার অধিকার জনগণের।
কৃষ্ণ এন. দাস (Krishna N. Das):
এই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি লিখেছেন যিনি ভারতে রয়টার্সের রাজনীতি ও সাধারণ সংবাদ বিভাগের সম্পাদক।
তিনি রয়টার্সের এমন একাধিক অনুসন্ধানী ও আন্তর্জাতিক সংবাদ কাভারেজ দলের সদস্য ছিলেন, যারা Society of Publishers in Asia (SOPA) পুরস্কার অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে বৈশ্বিক বিষাক্ত কফ সিরাপ কেলেঙ্কারির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের কভারেজ এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরির (Bangladesh Bank Heist) প্রতিবেদনের জন্য সম্মাননা। ২০১৯ ও ২০২০ সালে তিনি রয়টার্সের মালয়েশিয়া ব্যুরো প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au