শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারিং নিয়েও আলোচনা ও বিতর্ক বাড়ছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলবিশ্বে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এর পেছনে রয়েছে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস।
বিশ্বকাপে রেফারি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফিফা সাধারণত নিরপেক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে শুধু মাঠের নিরপেক্ষতা নয়, অনেক সময় ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ও বিবেচনায় নেয় সংস্থাটি। বিশেষ করে যেসব দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, সেসব দেশের ম্যাচে রেফারি নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমনই এক বিশেষ পরিস্থিতি। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের কোনো রেফারি আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনা করলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে এসেও এই দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
এর পেছনে রয়েছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ওই বছরের ২ এপ্রিল দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় আর্জেন্টিনা। এর জেরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে শুরু হয় ৭৪ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধ।
১৯৮২ সালের জুনে আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অবসান হয়। এই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং তিনজন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী নিহত হন।
যুদ্ধের চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফকল্যান্ড ইস্যু এখনো দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ফুটবল মাঠেও এর প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের পরাজয় এবং দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ঘটনাও দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
ফিফা মনে করছে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে ম্যাচ অফিসিয়াল নির্বাচনে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তাই আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংলিশ রেফারি না রাখার সিদ্ধান্তকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au