পেনাল্টি মিসে প্রশ্নের মুখে মেসি, আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্ত কি বদলাবে?
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে যেন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে লিওনেল মেসির কিংবদন্তি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়া আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতি এবং একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের মাধ্যমে যে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের পর নতুন করে বড় ধরনের হামলার খবর না পাওয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান, ওয়াশিংটন আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। একই দিনে আরব সাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ যুদ্ধবিমানগুলোতে অস্ত্রসজ্জা এবং পাইলটদের সম্ভাব্য অভিযানের মহড়া চালাতে দেখা যায়।
পরে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টির ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, ইরান আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে পূর্বের যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই।
এদিকে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’ (রুসি)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল স্টিফেনস কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, যথাযথ রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এখনো সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর রাখা সম্ভব। তবে এজন্য উভয় পক্ষকেই নতুন করে আস্থা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্টিফেনস বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কোনো পক্ষই এখন অন্য পক্ষের অবস্থান বা যুক্তি গুরুত্ব দিয়ে শুনতে আগ্রহী নয়। ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে। তার মতে, সংকট নিরসনে অন্তত একটি পক্ষকে সংযম দেখিয়ে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
স্টিফেনসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সমঝোতা স্মারকের কিছু শর্তই পরবর্তী উত্তেজনার ভিত্তি তৈরি করেছিল। তার ভাষ্য, চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র সেসব সুবিধা পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সেই উত্তেজনা সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়।
তবে চলমান সংকটের মধ্যেও একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, এত বড় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়েনি। এটি ইঙ্গিত করে যে বাজার সংশ্লিষ্টরা এখনো বিশ্বাস করছেন, কূটনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধান সম্ভব এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে গড়াবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে সংকটের মুখে ফেললেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে সমঝোতা স্মারক টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au