পেনাল্টি মিসে প্রশ্নের মুখে মেসি, আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্ত কি বদলাবে?
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে যেন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে লিওনেল মেসির কিংবদন্তি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা…
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই- চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডির (বিওয়াইডি) প্রশাসনিক ভুলের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় শত শত গ্রাহকের কাছে ভুল মডেল বছরের গাড়ি বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রশাসনিক ত্রুটিতে মোট এক হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক প্রভাবিত হয়েছেন।
মেলবোর্নের বাসিন্দা জোহেব খান জানান, নতুন বৈদ্যুতিক বিওয়াইডি গাড়ি কেনার কয়েক সপ্তাহ পর কোম্পানির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন তাকে জানানো হয়, প্রশাসনিক ভুলের কারণে তিনি যে গাড়িটিকে ২০২৬ সালের মডেল ভেবে কিনেছেন, সেটি আসলে ২০২৫ সালে তৈরি।
জোহেব খান বলেন, গাড়ি কেনার সময় বিল, চুক্তিপত্রসহ সব নথিতে ২০২৬ সালের মডেল উল্লেখ ছিল। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পর বিওয়াইডির গ্রাহকসেবা বিভাগ থেকে ফোন করে জানানো হয়, চুক্তিপত্র প্রক্রিয়াকরণের সময় একটি প্রশাসনিক ভুল হয়েছে।
তিনি বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয় যে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মডেলের মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই। তবে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ হাজার ১০০ অস্ট্রেলীয় ডলার ফেরত দেওয়া হবে, যা মূলত গাড়ি সরবরাহ বাবদ নেওয়া অর্থ।
জোহেব খান জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ঘটনাটি শুধু তার ক্ষেত্রেই ঘটেছে। কিন্তু পরে বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে গিয়ে দেখেন, অসংখ্য গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করছেন।
তার ভাষায়, প্রায় প্রত্যেক মন্তব্যকারীর অভিজ্ঞতাই তার মতো। বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিওয়াইডি ডিলারশিপ এবং একাধিক গাড়ির মডেলের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক ইতোমধ্যে ১ হাজার ১০০ ডলারের ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বিভ্রান্ত ছিলেন, আবার তার মতো অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি নিজেও কোম্পানির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন।
তবে জোহেব খানের দাবি, শুধু ১ হাজার ১০০ ডলার ফেরত দেওয়া যথেষ্ট নয়। নতুন গাড়ির মূল্য বিবেচনায় তিনি গাড়িটি বদলে নতুন মডেল অথবা আরও বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোম্পানির কাছ থেকে কোনো জবাব পাননি।
তিনি আরও বলেন, এই ভুলের কারণে তার গাড়ির বীমা এবং ভবিষ্যতে পুনরায় বিক্রির সম্ভাব্য মূল্য নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও গাড়িটির মান বা কার্যক্ষমতা নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই।
তার ভাষায়, “গাড়ির কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো, কোম্পানির এই ভুলের কারণে সবাই বিপাকে পড়েছেন। এখন আমার কাছে এই গাড়িটিই আছে, তাই এটি চালিয়েই যেতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংবাদমাধ্যম নিউজওয়্যার বিওয়াইডির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে বিওয়াইডির জনসংযোগ পরিচালক পল এলিস অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসিকে বলেন, প্রশাসনিক এই ভুলে মোট এক হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এখানে প্রতারণার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পূর্ণ অর্থ ফেরতের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এরপর তারা চাইলে নতুন লেনদেনের মাধ্যমে আবার বিওয়াইডির গাড়ি কিনতে পারবেন।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা কমিশনের (এসিসিসি) একজন মুখপাত্র বলেন, দেশটির ভোক্তা সুরক্ষা আইনের আওতায় ক্রেতারা পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অধিকার ভোগ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বিক্রি করা পণ্য অবশ্যই বিক্রির সময় যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে মিল থাকতে হবে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ভোক্তা আইন অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্যের ধরন, মডেল বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য দিতে পারে না। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে, তারা যে পণ্য সরবরাহ করছে, তা বিক্রির সময় দেওয়া তথ্য ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এসিসিসি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উচিত দ্রুত সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা।
ভোক্তারা যদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সমস্যার সমাধান করতে না পারেন, তাহলে তারা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্য বা অঞ্চলের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার সহায়তা নিতে পারবেন। পাশাপাশি বিষয়টি এসিসিসির কাছেও অভিযোগ হিসেবে জানানো যাবে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ভোক্তা আইনে থাকা অধিকার ছাড়াও বিক্রয়চুক্তির আওতায় গ্রাহকদের অতিরিক্ত আইনি অধিকার থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au