সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হচ্ছে ‘গুন্ডা দমন আইন’: শুভেন্দু অধিকারী
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আগামী সোমবার থেকে বহুল আলোচিত ‘গুন্ডা দমন আইন’ কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন,…
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী নীতিগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্রাটান ইনস্টিটিউটের এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শক্তিশালী ফার্মেসি লবির প্রভাবের কারণে দেশটির মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ফার্মেসি গিল্ড অব অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব খাটিয়ে এমন নীতিমালা কার্যকর রাখছে, যার ফলে রোগী ও করদাতাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্মেসি গিল্ড অব অস্ট্রেলিয়া দেশের অধিকাংশ ফার্মেসির মালিকদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারের সঙ্গে কমিউনিটি ফার্মেসি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার সরকারি অর্থ ফার্মেসি খাতে বরাদ্দ হয়।
গ্রাটান ইনস্টিটিউটের স্বাস্থ্যবিষয়ক পরিচালক ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক পিটার ব্রিডন বলেন, এসব আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ দরজার আড়ালে হয়। কী তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়, সে বিষয়ে জনসাধারণ বা স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কোনো নজরদারি থাকে না। তাঁর ভাষায়, এটি একটি স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অস্বাভাবিক প্রভাবের উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি ফার্মেসি চুক্তির মাধ্যমে ফার্মেসি মালিকদের আয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং গত এক দশকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
তবে ফার্মেসি গিল্ডের সহসভাপতি সাইমন ব্ল্যাকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ফার্মেসিগুলো শুধু ওষুধ সরবরাহই করে না, টিকাদান কর্মসূচি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবাও দিয়ে থাকে। তাই সরকার থেকে পাওয়া অর্থ তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই প্রতিফলন।
তিনি আরও দাবি করেন, গত বছর ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম (পিবিএস)-এর আওতায় রোগীদের নিজ খরচ কমানোর জন্য গিল্ডই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে পিবিএসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রোগীদের ওষুধের ব্যক্তিগত ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে একটি প্রেসক্রিপশন ওষুধ সরবরাহের জন্য গড়ে প্রায় ৯ অস্ট্রেলীয় ডলার ‘ডিসপেনসিং ফি’ নেওয়া হয়। কিন্তু এই ফি বাস্তবে ওষুধ সরবরাহের প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় না। প্রকৃত খরচ নিরূপণের প্রচেষ্টাও অতীতে ফার্মেসি গিল্ডের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৮০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত আদায়ের সুযোগ রয়েছে, যাকে প্রতিবেদনে ‘অযৌক্তিক অতিরিক্ত ফি’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
গ্রাটান ইনস্টিটিউট আরও জানায়, বর্তমানে কিছু ওষুধে ফার্মেসিগুলো ছাড় দিতে নিরুৎসাহিত হয়। গত এক দশক ধরে চালু থাকা ১ ডলারের ছাড় সুবিধাও ২০২৯ সালে শেষ হয়ে যাবে। যদিও এই ছাড়ের ফলে শুধু ২০২২-২৩ অর্থবছরেই রোগীরা প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার সাশ্রয় করেছিলেন।
প্রতিবেদনটিতে ফার্মেসি স্থাপনের অবস্থানসংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মেরও সমালোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে সাধারণভাবে নতুন একটি ফার্মেসি স্থাপন করতে হলে অন্য একটি ফার্মেসি থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরে থাকতে হয়, যদিও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। গ্রাটান ইনস্টিটিউটের মতে, এই নিয়ম প্রতিযোগিতা কমিয়ে বিদ্যমান ফার্মেসিগুলোকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে নতুন ব্যবসা গড়ে ওঠা এবং রোগীদের জন্য কম দামে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হচ্ছে।
তবে ফার্মেসি গিল্ড বলছে, এই নিয়মের ফলে শুধু লাভজনক শহরাঞ্চলে নয়, প্রত্যন্ত এলাকাতেও ফার্মেসি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, বর্তমান কমিউনিটি ফার্মেসি চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার পর এটি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থা চালু করা উচিত। আর তা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতের আলোচনায় ফার্মাসিস্ট, রোগীর প্রতিনিধি এবং স্বাধীন মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার অবশ্য এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেছেন, বর্তমান ফার্মেসি চুক্তি প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au