ভারী বৃষ্টিতে বাংলাদেশের কয়েক অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই- দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রোববার (১২ জুলাই) কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও বন্যার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগ ও ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় কোনো লঘুচাপ সক্রিয় নেই।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি আগামী দুই দিনে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সুরমা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে সোমেশ্বরী এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেরপুর, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি। এর ফলে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।