চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘বাভি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- চীনের পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং প্রদেশে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির পূর্বাঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ফিলিপাইনে টাইফুন ও মৌসুমি বৃষ্টিজনিত ভূমিধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাইওয়ানে আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৪ জন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি ঝেজিয়াং প্রদেশে স্থলভাগে আঘাত হানে। এর আগে এটি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ ও তাইওয়ানে প্রবল বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়।
গত এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এটি চীনে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন। এর আগে গত সপ্তাহান্তে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’ আঘাত হানে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাইফুনের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। দুর্যোগের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা টাইফুনটির জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে, যা দেশটির চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েক শ উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অনেক ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে, স্থগিত রাখা হয়েছে বহু ফেরি সার্ভিস। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঝেজিয়াংয়ের ঘনবসতিপূর্ণ শহর ওয়েনঝুর বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হুয়াং জিংহুয়ান রয়টার্সকে বলেন, টাইফুনের আগাম সতর্কতা পেয়ে তিনি পরিবারের জন্য দুই থেকে তিন দিনের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় মজুত করেছেন। তাঁর ভাষায়, আগেও তাঁরা টাইফুন মোকাবিলা করেছেন, এবারও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, স্থলভাগে প্রবেশের পর টাইফুনটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, ফিলিপাইনে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে টাইফুন বাভির প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তাইওয়ানেও টাইফুনের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পিচ্ছিল সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
এ ছাড়া তাইওয়ানে প্রায় ১৪ হাজার ২১০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তাইচুং শহর ও হুয়ালিয়েন কাউন্টি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্যোগের কারণে দেশজুড়ে স্কুল, সরকারি অফিস এবং অধিকাংশ রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা