মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় ঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে।
একই সময়ে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আগাম নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরান দাবি করেছে, কয়েকটি জাহাজ অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়।
আইআরজিসি ঘোষণা দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির ওই ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ওই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা