শুভেন্দু অধিকারী। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আগামী সোমবার থেকে বহুল আলোচিত ‘গুন্ডা দমন আইন’ কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, নতুন আইন কার্যকর হলে রাজ্যে সন্ত্রাস, দাঙ্গা, ভাঙচুর ও অশান্তি দমনে প্রশাসন আরও কঠোর ভূমিকা পালন করবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠক এবং জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
এর আগে গত ২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল-২০২৬’ পাস হয়, যা ‘গুন্ডা দমন আইন’ নামে পরিচিত। আইনে জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনের স্বার্থে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই বিধানকে কেন্দ্র করে মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই উদ্বেগ ও সমালোচনা প্রকাশ করে আসছে।
বহরমপুরের তাকিপুর হাই মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর আন্দোলনের নামে ট্রেন ও বাসে আগুন দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা আর সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করবে এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সভায় মুর্শিদাবাদের আঞ্চলিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি রাজ্যে অশান্তি বা গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে নতুন আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশকে আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও সংখ্যালঘু শিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প যাচাই করতে গিয়ে ইতোমধ্যে ৬০০ ভুয়া সুবিধাভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভুয়া জন্মসনদ ইস্যুর অভিযোগেও তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, কোনো ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিডিও) এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
আর জি কর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অবহেলার অভিযোগে তিনজন আইপিএস কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, দায়িত্বে গাফিলতি ও অপরাধের ক্ষেত্রে তাঁর সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।
এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দলের নেতা থাকাকালে শুভেন্দু অধিকারী নিজেও তৎকালীন সরকারের নানা সমালোচনা করেছিলেন। এখন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি কি সেই একই অধিকার অন্যদের দিতে চান না?