তাবিজের কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত…
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই- মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ইঙ্গিত ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান এবং এরপর থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। একই সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফিরে আসতে চান। তাঁর ভাষ্য, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি নিজের মাতৃভূমিতেই ফিরে যেতে চান। তিনি আরও বলেন, একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।
বর্তমান সরকারও শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন এবং আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ পাবেন। সরকার দাবি করেছে, পুরো বিচার কার্যক্রম আইনের শাসনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
এদিকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি এবং দুই দেশের বিদ্যমান আইন ও প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসারেই বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা হলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশও নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত বা আইনি সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au