শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত বিয়ে জালিয়াতি ও মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় নিজেদের নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছে চীন। ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস নাগরিকদের অবৈধ দালাল, অননুমোদিত ম্যারেজ এজেন্সি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘বিদেশি বধূ’ খোঁজার প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত এক পরামর্শে চীনা দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের সম্পৃক্ততায় আন্তঃসীমান্ত বিয়ে জালিয়াতি ও মানবপাচারের একাধিক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করেছে।
দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অবৈধ দালাল বা অনুমোদনহীন বিয়ে-সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করার চেষ্টা করলে মানবপাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। বাংলাদেশে মানবপাচার-সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনা নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দ্রুত বিদেশে বিয়ে করিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন কিংবা অনলাইন এজেন্টদের প্রলোভন থেকেও দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই দুই পক্ষের স্বেচ্ছাসম্মতি, বৈধ আইনি প্রক্রিয়া এবং পারিবারিক স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অর্থের বিনিময়ে বা দালালের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে প্রায়ই আর্থিক প্রতারণা, জাল কাগজপত্র, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ফৌজদারি মামলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশে নারী পাচার ও ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ভিসায় বাংলাদেশে এসে স্থানীয় নারীকে বিয়ে করার ঘটনায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করছে। পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞাতে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে কিংবা সন্দেহজনক কাগজপত্র পাওয়া গেলে সেসব ঘটনায় বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, কেউ যদি ঘুষের বিনিময়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় বা জাল অ্যাপোস্টিল সনদ, ভুয়া ভ্রমণ নথি কিংবা জাল কাগজপত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনে দীর্ঘদিনের লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে বিয়ে উপযোগী নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপরাধচক্র বিদেশি বধূ সংগ্রহের নামে মানবপাচার ও প্রতারণার জাল বিস্তার করছে। এতে যেমন অসহায় নারীরা পাচারের শিকার হচ্ছেন, তেমনি সম্ভাব্য বরদেরও প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক ও আইনি জটিলতায় ফেলা হচ্ছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশ ও চীনের প্রচলিত আইন মেনে সম্পন্ন হতে হবে। কেউ যদি বিয়ে জালিয়াতি বা প্রতারণার শিকার হন, তাহলে দ্রুত স্থানীয় পুলিশ এবং চীনা কনস্যুলার কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au