তাবিজের কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত…
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উদ্বেগজনক পতন দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও তুরস্কের রপ্তানিও কমলেও বাংলাদেশের পতনের হার ছিল সবচেয়ে বেশি। ফলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বও কমে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তারও অনেক বেশি। একই সময়ে চীনের রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, ভিয়েতনামের ১ দশমিক ৫১ শতাংশ, ভারতের ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং তুরস্কের ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এছাড়া কম্বোডিয়ার রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়টি মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন থেকেই বিকল্প উৎস খুঁজছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে, সেই আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা ধীরে ধীরে ভারতের মতো দেশে সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন।
ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া এখনও মূলত তুলাভিত্তিক পোশাক উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে ভিয়েতনাম কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে অনেক এগিয়ে গেছে। বিশ্ববাজারে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের চাহিদা বাড়তে থাকায় এ ধরনের সক্ষমতা থাকা দেশগুলো এখন বেশি সুবিধা পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাজারে টিকে থাকতে বাংলাদেশকে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানো ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান শুধু বৈশ্বিক চাহিদা কমার ইঙ্গিত নয়, বরং বাংলাদেশ যে বাজারের অংশ হারাচ্ছে সেটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। তাঁর মতে, এলডিসি উত্তরণের পর প্রতিযোগিতামূলক বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ডিউ ডিলিজেন্স ও ট্রেসেবিলিটি মানদণ্ড পূরণের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগে সীমিত সুযোগ, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বর্তমানে দেশের পোশাক খাতকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au