অভিযুক্ত জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন এবং পল্লী চিকিৎসক হিসেবেও পরিচিত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মহসিন হাওলাদার।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ভাইয়ের ছেলেকে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ওই নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ও নয় বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে তিনি মাঝে মধ্যেই তাবিজ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে যেতেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে সন্ধ্যায় ওই নারীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা তারা ঘরের ভেতরে ছিলেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।