বাংলাদেশ

মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এল

  • 4:27 pm - July 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৯৬ বার
গত বছরের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২১ জুলাই- রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত বছরের ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় পাইলটের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিশন। একই সঙ্গে পাইলটের গ্রাউন্ড সুপারভাইজার বা অফিসার কমান্ডিংয়ের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া নিহতদের মধ্যে পাইলট, শিক্ষক, কর্মচারী ও কয়েকজন অভিভাবকও ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লা খানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। তিন মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। যদিও প্রতিবেদনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি চালাচ্ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম। এটি ছিল তার জীবনের প্রথম একক উড্ডয়ন (ফার্স্ট সলো ফ্লাইট)। তবে তার প্রশিক্ষণে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ সিলেবাস অনুযায়ী যে ধরনের মিশন পরিচালনার কথা ছিল, তার পরিবর্তে কমান্ডিং অফিসার তাকে ভিন্ন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এর ফলে সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।

কারিগরি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবতরণের জন্য বাঁক নেওয়ার সময় মাত্র চার সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটির ব্যাংক অ্যাঙ্গেল ৫৯ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ৬৫ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়। এ সময় পাইলট কন্ট্রোল স্টিক জোরে টেনে ধরলে বিমানের অ্যাঙ্গেল অব অ্যাটাক বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করে এবং বিমানটি স্টল অবস্থায় চলে যায়।

এছাড়া বিমান বাহিনীর নিজস্ব তদন্তে বিমানের সামনের কাচে (উইন্ডশিল্ড) একটি কালো দাগের উল্লেখ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো পাখি বা উড়ন্ত বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে এটি সৃষ্টি হয়েছিল, যা পাইলটকে তাৎক্ষণিক ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে থাকতে পারে।

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার সময় বিমানটির উচ্চতা খুবই কম ছিল। ফলে ইজেক্ট করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পাইলটের হাতে মাত্র সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময় ছিল।

তদন্ত কমিশনের মতে, হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে স্কুল ভবনের কাঠামোগত ত্রুটিও বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইলস্টোন স্কুলের ‘হায়দার আলী’ ভবনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ভবনের আয়তন অনুযায়ী অন্তত তিনটি সিঁড়ি থাকার কথা থাকলেও সেখানে জরুরি নির্গমনের জন্য ছিল মাত্র একটি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিমানটি ওই সিঁড়ির সামনেই বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বের হতে না পারায় প্রাণহানি বেড়ে যায়।

এছাড়া বিমানবন্দর এলাকার উচ্চতা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অমান্য করে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনাকেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর নিহতদের লাশ গুমের যে অভিযোগ উঠেছিল, তদন্তে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কমিশন জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা এ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি।

দুর্ঘটনার এক বছর পার হলেও নিহত ও আহতদের পরিবার এখনো সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিশন নিহত শিশুদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা, প্রাপ্তবয়স্ক নিহতদের পরিবারের জন্য ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য পৃথক প্যাকেজের সুপারিশ করেছিল। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই স্বল্প পরিমাণ অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেন। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ক্ষতিপূরণের একটি মডেল তৈরি করলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কমিশনের সদস্য ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, কমিশন সুস্পষ্ট সুপারিশ করেছে। তিনি সরকারের প্রতি তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে হতাহতদের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হলেও সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এই শাখার আরও খবর

শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক

রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…

শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…

বাংলাদেশে সার নিয়ে আসলে কী চলছে?

আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।…

ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…

গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড…

বেদখল হচ্ছে ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা, ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্মশানসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের কেউ কেউ নিজেদের বসতি সম্প্রসারণের জন্য শ্মশানের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au