জর্দানে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে মৃত ঘোষণা, নিহত বেড়ে ১৮
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর জর্দানে নিখোঁজ থাকা আরও এক মার্কিন সেনাসদস্যকে মৃত বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। এর…
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দেশটির আইনপ্রণেতাদের সামনে এই তথ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে পিট হেগসেথ বলেন, ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের মধ্যে ইরান যুদ্ধে ইতোমধ্যে হওয়া ব্যয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই হিসাব নির্ধারণ করেছে, তা স্পষ্ট করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। এর আগে মার্চ মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল।
ইরান যুদ্ধের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছিলেন। এর বড় অংশই ইরান সংঘাত পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল প্রশাসন। তবে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়ে উঠেছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ইরান যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে। তারা অভিযোগ করছে, যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে এবং সরকারের বিপুল অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় হচ্ছে।
শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিচ্ছেন এবং এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বক্তব্যে বারবার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এবং যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে আইনপ্রণেতাদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।
পেন্টাগন জানিয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ না পেলে সামরিক প্রশিক্ষণ কমিয়ে দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট ইতোমধ্যে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হলেও ইরান যুদ্ধের ব্যয় সামলাতে নতুন অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, সেনাসদস্যদের বেতন ও অন্যান্য জরুরি খরচ চালানো সম্ভব হলেও ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে পিট হেগসেথ ২০২৭ অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ না দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। এরপর দুই দেশই নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জুলাইয়ের পর আহত হওয়া প্রায় ৯৬ শতাংশ সেনা আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি দেশটির জ্বালানি স্থাপনা, সেতু এবং খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ তত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সংঘাত বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au