গডজিলা ভার্সেস কং’ অভিনেত্রী কেলি হটল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ অভিনেত্রী কেলি হটল, যিনি Godzilla vs. Kong চলচ্চিত্র সিরিজে অভিনয় করে পরিচিতি পান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স…
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: পাকিস্তানের লাহোরের একটি সেশনস আদালত মঙ্গলবার ধর্ম অবমাননা আইন ও প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (পেকা), ২০১৬-এর অধীনে দায়ের করা মামলায় পডকাস্ট উপস্থাপক রেহান তারিকের গ্রেপ্তারের পর জামিন মঞ্জর করেছেন।
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) মামলাটি দায়ের করে। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর লাহোরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউটিউবার রেহান তারিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিয়ান দাউদ আদালতে বলেন, অভিযোগে উল্লিখিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলোর সঙ্গে তার মক্কেলের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে পারেনি।
তিনি যুক্তি দেন, ইতিহাস বা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং প্রশ্ন করা সংবিধানসম্মত সাংবাদিকতার অংশ। এছাড়া, এফআইআরে কোন প্রশ্নগুলো আপত্তিকর বলে বিবেচিত হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আইনজীবী আরও জানান, দেশের খ্যাতনামা ধর্মীয় আলেমদের মতামত অনুযায়ী, আলোচিত প্রশ্নগুলো ইসলামের কোনো সম্মানিত ব্যক্তিত্বকে অবমাননা করার শামিল নয়। তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। মামলাটি জামিন-অযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে না, তদন্ত শেষ হয়েছে, আর কোনো আলামত উদ্ধারের প্রয়োজন নেই এবং বিষয়টি আরও তদন্তের দাবি রাখে। তাই তার মক্কেল জামিন পাওয়ার অধিকারী।
অন্যদিকে, জামিনের বিরোধিতা করে এনসিসিআইএর স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) নাজাম বাজওয়া আদালতে বলেন, পডকাস্টে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিতর্কিত প্রশ্ন করা হয়েছে, যা ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দিতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ধর্মীয় আলেমকে এফআইআরে আসামি করা হয়নি। এরপরও তিনি আদালতের কাছে জামিন আবেদন খারিজের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বিস্তারিত শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা ও সেশনস জজ নুসরাত আলী সিদ্দিকী এক লাখ পাকিস্তানি রুপির জামিন নামা জমা দেওয়ার শর্তে রেহান তারিকের জামিন মঞ্জর করেন।
এর আগে, একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রেহান তারিকের গ্রেপ্তারের পর জামিন আবেদন নাকচ করে বলেন, এ মামলায় বিশেষ বিবেচনায় জামিন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
গত ২৫ জুন এনসিসিআইএ রেহান তারিকের বিরুদ্ধে পেকা আইনের ১১ ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য) এবং পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১৫৩-এ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো), ২৯৫-এ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত) ও ২৯৮ ধারা (ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে বক্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি) অনুযায়ী মামলা দায়ের করে। এফআইআরে বলা হয়, রেহান তারিক এক ধর্মীয় আলেমকে নিয়ে একটি পডকাস্টে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যা বিভিন্ন মতাবলম্বীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দেয়।
চলতি মাসের শুরুতে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর একজন ম্যাজিস্ট্রেট এনসিসিআইএকে রেহান তারিককে ছয় দিনের শারীরিক রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। এর আগে মে মাসে, জনসাধারণের মধ্যে কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ ও অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহর থেকে ১১ জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কর্মীকে গ্রেপ্তার করে এনসিসিআইএ।
সুত্র: দ্য ডন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au