"জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।"
(ছবি: গেটি ইমেজেস)
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের (ইউএন) পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মনোনয়নের কথা ভাবছেন বলে দাবি করেছে ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে গত কয়েক বছরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি স্পেনের বিশ্বকাপ জয় উদযাপনেও দুজনকে একসঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। বিভিন্ন সময়ে তারা প্রকাশ্যে একে অপরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। গত বছর ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান করেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, ইনফান্তিনোকে এমন একজন নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি বিশ্বজুড়ে সম্মানিত এবং বিভিন্ন পক্ষকে একত্রিত করার বিশেষ সক্ষমতা রাখেন।
বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে দায়িত্ব ছেড়ে অবসরে যাচ্ছেন। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তবে মহাসচিব হতে হলে ইনফান্তিনোকে প্রথমে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পেতে হবে। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। যদিও তিনি এই পদে আগ্রহী কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। বরং তিনি ইতোমধ্যে ফিফা সভাপতির পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব হলে ইনফান্তিনোর বর্তমান আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বর্তমানে ফিফা সভাপতি হিসেবে তিনি বছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান। আর জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার।
ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইতালীয়-মার্কিন ব্যবসায়ী ও কূটনীতিক পাওলো জামপোল্লি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, “এমন ধারণা কেবল ট্রাম্পের পক্ষেই সম্ভব।” তার ভাষায়, “ইনফান্তিনো দারুণ কাজ করবেন। ফিফায় ২০০টিরও বেশি সদস্য দেশকে সমন্বয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। জাতিসংঘেও ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে হয়।”
২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুইজারল্যান্ডের ইনফান্তিনো। এর আগে তিনি সাত বছর উয়েফার মহাসচিব ছিলেন।
এদিকে চলমান বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর কয়েকটি সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে ম্যাচে অতিরিক্ত হাইড্রেশন বিরতির অনুমতি এবং ট্রাম্পের অনুরোধের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাও রয়েছে।
সুত্রঃ নিউ ইয়র্ক পোস্ট।