‘ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না’
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশও তেল রপ্তানি করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে এই অঞ্চলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও নিরাপদ থাকবে না।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এটি এখন ‘সব অথবা কিছুই নয়’ ধরনের বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, যে অঞ্চলে ইরানকে তেল বিক্রি করতে বাধা দেওয়া হবে, সেখানে অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন নেই। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে আগের পরিস্থিতি আর কখনো ফিরে আসবে না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তার জবাবে ‘শক্তিশালী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। শুধু হামলাকারী নয়, এমন হামলায় যে দেশই সহযোগিতা করবে, তাকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এক্সে প্রকাশিত বার্তায় আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন, বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা, কঠোর ও নির্ধারক জবাব ডেকে আনবে।
এর আগে ইরানের একটি সামরিক সূত্রও সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাবে।
আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে ওই সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইরান ‘ইস্পাত কঠিন সংকল্প’ নিয়ে এগোচ্ছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে আর কখনো দেশের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হতে দেবে না। সূত্রটি আরও দাবি করে, ইরানের নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চললে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ থাকবে। অন্যথায়, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে তেহরান কৌশলগত এই জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, গত ১০ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বুঝে গেছে যে ইরান চাইলে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপও আগের মতো ব্যর্থ হবে।
এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রকেট বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ভেতরে অথবা রাজধানীর আশপাশে থাকা একটি সেতু কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তিনি লিখেছেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিটি হামলার জবাব সরাসরি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হেনেই দেওয়া হবে।
এদিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি দ্বীপে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বন্ধে গত জুনে পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সুত্রঃ এক্স