ভারতে আন্দোলনের মধ্যেই আরও দুই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: ভারতে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলন চলার মধ্যেই নতুন করে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ…
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: বিশ্বের দীর্ঘতম পাল্লার বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ইউএলআর (Airbus A350-1000ULR) প্রথমবারের মতো ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলক উড়াল শুরু করেছে। কোয়ান্টাসের বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্রান্সের তুলুজ থেকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানপ্রেমী ও ফ্লাইট স্পটাররা উড়োজাহাজটির যাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩৩ মিনিটে ফ্রান্সের তুলুজ থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি। প্রায় ১৯ ঘণ্টার এই যাত্রা শেষে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেলবোর্নে অবতরণের কথা রয়েছে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা ফ্লাইটে পরিণত হয়। লাইভ ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এ একসময়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ এই ফ্লাইট অনুসরণ করেন।
এর আগে গত ২ জুন ফ্রান্স ও আটলান্টিক উপকূলের আকাশে তিন ঘণ্টা ৪৩ মিনিটের প্রথম পরীক্ষামূলক উড়াল সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল উড়োজাহাজটি।
কোয়ান্টাস ২০১৭ সালে প্রজেক্ট সানরাইজ ঘোষণা করে। এরপর ২০২২ সালে এয়ারবাসের কাছে বিশেষভাবে নকশা করা ১২টি এ৩৫০-১০০০ইউএলআর উড়োজাহাজের অর্ডার দেয়। শুরুতে চলতি বছর প্রথম বিমানটি সরবরাহের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৭ সালের এপ্রিলে নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর পরবর্তী আড়াই বছরে বাকি ১১টি উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে।
যদিও পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি মেলবোর্নে অবতরণ করবে, তবে সেখান থেকে কবে সরাসরি দীর্ঘপাল্লার বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কোয়ান্টাস।
সম্প্রতি ফ্রান্সের তুলুজে এয়ারবাস সদর দপ্তরে কোয়ান্টাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভেনেসা হাডসন ঘোষণা দেন, ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে সিডনি-লন্ডন নন-স্টপ ফ্লাইট দিয়ে প্রজেক্ট সানরাইজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এরপর একই বছরের শেষ দিকে সিডনি-নিউইয়র্ক নন-স্টপ ফ্লাইটও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিটি রুটে প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তিনটি করে উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে। ফলে প্রথম ছয়টি উড়োজাহাজ সিডনি-লন্ডন ও সিডনি-নিউইয়র্ক রুটে ব্যবহৃত হবে। পরবর্তী উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে মেলবোর্নসহ অন্যান্য শহর থেকেও দীর্ঘপাল্লার সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভেনেসা হাডসন বলেন, নতুন উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রুট ঘোষণা করা হবে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
কোয়ান্টাসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা রব মারকোলিনা জানান, মেলবোর্নের পরিবর্তে সিডনি থেকে প্রথম প্রজেক্ট সানরাইজ ফ্লাইট চালুর প্রধান কারণ হলো সেখানকার বড় বাজার ও বেশি যাত্রী চাহিদা।

প্রথম প্রজেক্ট সানরাইজ ফ্লাইট।ছবি: সংগৃহীত
এদিকে কোয়ান্টাসের প্রধান প্রযুক্তিগত পাইলট অ্যালেক্স পাসেরিনি জানান, সিডনি-লন্ডন নন-স্টপ ফ্লাইটের প্রায় ২০ শতাংশ উত্তর মেরু (নর্থ পোল) হয়ে পরিচালিত হবে। বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধের শীতকালে এই রুট ব্যবহার করা হবে। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, আলাস্কা, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড হয়ে লন্ডনে পৌঁছানোর এই পথটি দূরত্বে কিছুটা দীর্ঘ হলেও অনুকূল বায়ুপ্রবাহ এবং কম আকাশযান চলাচলের কারণে অনেক সময় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে কোনো বাণিজ্যিক বিমান প্রথমবারের মতো নিয়মিতভাবে উত্তর মেরু অঞ্চল অতিক্রম করবে। এই রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা, মহাকাশীয় আবহাওয়া এবং মেরু অঞ্চলের বিশেষ পরিচালনাগত বিষয়গুলো মাথায় রেখে আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিডনি থেকে লন্ডনের দ্রুততম ফ্লাইটের সময় হবে ১৯ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, আর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে ২০ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। অন্যদিকে লন্ডন থেকে সিডনির যাত্রা সম্পন্ন হতে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এত দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীদের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কোয়ান্টাস। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্লস পারকিন্স সেন্টারের ঘুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পিটার সিস্টুলি-র পরামর্শে নতুন উড়োজাহাজে আলোকসজ্জা, খাবার এবং বিশ্রামের সময়সূচি সাজানো হয়েছে।
উড়োজাহাজটিতে মোট ১২ ধরনের আলোকসজ্জা থাকবে, যার মধ্যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আলোর বিশেষ বিন্যাসও রয়েছে। যাত্রীদের শরীরের জৈবঘড়ির সঙ্গে সময়ের পার্থক্য মানিয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য সিডনি-লন্ডন ফ্লাইটে টানা ১২ ঘণ্টা কেবিন অন্ধকার রাখা হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারেন।
খাবারের ক্ষেত্রেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঘুমের আগে কম চর্বিযুক্ত ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পরিবেশন করা হবে। আবার যাত্রীদের সতেজ রাখতে প্রয়োজনে বিশেষ মসলা ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এসব খাবার বাধ্যতামূলক নয়, যাত্রীরা চাইলে সাধারণ খাবারও বেছে নিতে পারবেন।
এছাড়া প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি শ্রেণির মাঝামাঝি অংশে একটি ওয়েলনেস জোন রাখা হয়েছে, যেখানে সব শ্রেণির যাত্রীরা শরীরচর্চা ও স্ট্রেচিংয়ের জন্য বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারবেন। দীর্ঘ সময় একটানা উড়োজাহাজে থাকার কারণে শারীরিক ক্লান্তি ও জেটল্যাগ কমাতেই এই সুবিধা রাখা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au