ভারতে আন্দোলনের মধ্যেই আরও দুই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: ভারতে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলন চলার মধ্যেই নতুন করে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ…
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অনলাইন ও জনপরিসরে কঠোর ধর্মীয় বা উগ্রপন্থী বক্তব্যের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এর ফলে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর জন্য রাজনৈতিক পরিসর সম্প্রসারিত হয়েছে এবং দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
The Straits Times-এ প্রকাশিত সাংবাদিক রেদওয়ান আহমেদের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশের উগ্রবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে চরমপন্থী বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে ফেরত পাঠানো দুই বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিককে ঢাকায় পৌঁছানোর পর পুলিশ আটক করে। পরে আদালত তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠায়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো নির্দিষ্ট জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং আদালতও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে মালয়েশায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ৩৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ পুলিশের দেশব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী সতর্কতা জারি—এসব ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ, লেখক ও কবিদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ—এসব ঘটনাও সমাজে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় রক্ষণশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে জিহাদি সহিংসতা বা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থনের কোনো প্রমাণ নেই। বরং উদ্বেগের বিষয় হলো—উগ্র ধর্মীয় বক্তব্য ও চরমপন্থী মতাদর্শ আগের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল গবেষক আসিফ বিন আলী বলেন, শেখ হাসিনার আমলে দমিয়ে রাখা কিছু মতাদর্শ এখন প্রকাশ্যে আসছে এবং আগে প্রান্তিক হিসেবে বিবেচিত কিছু ধারণা সমাজের নির্দিষ্ট অংশে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। তবে তিনি মনে করেন, সহিংস উগ্রবাদ এখনো মূলধারায় পরিণত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামপন্থী চাপের কারণে নারীদের ফুটবল ম্যাচ বাতিল, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইন সংস্কারের বিরোধিতা এবং সুফি মাজারে হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে নারী অধিকারকর্মী, লেখক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুফি সম্প্রদায় এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বহুত্ববাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ এবং ধর্মীয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংসদে বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, সরকার কোনো ধরনের উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুব বেকারত্ব, অর্থনৈতিক হতাশা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে উগ্রবাদী প্রচারণার বিস্তার কিছু তরুণকে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবে গবেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এককভাবে উগ্রবাদের কারণ নয়; বরং এটি বিদ্যমান ক্ষোভকে আরও গভীর করতে পারে।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে বলেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে এক দশক আগের মতো ব্যাপক জঙ্গি হামলার পরিস্থিতি দেখা না গেলেও জনপরিসরে উগ্র ধর্মীয় বক্তব্য, সংগঠিত প্রচারণা এবং সামাজিক চাপের বিস্তার ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au