সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল।
বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত হবে।
যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হলেও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।
এই সম্ভাবনাকেই পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। দেশটির বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরব এ সক্ষমতা অর্জন করলে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
বুধবার ঘোষিত এই চুক্তি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট চুক্তিটির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি করা গুরুতর কৌশলগত ব্যর্থতা এবং এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ আঞ্চলিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে সামরিক কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে, যা পুরো পশ্চিম এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দিতে পারে। তিনি চুক্তিটি ঠেকাতে মার্কিন কংগ্রেসে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোরও আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ কারণেই চুক্তিটি শুধু ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
সূএ: রয়টার্স