আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউই আল সৌদ। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ জুলাই: লন্ডনের একটি পাঁচ তারকা বিলাসবহুল হোটেলে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের ফলে সৌদি আরবের ২৯ বছর বয়সী এক প্রিন্সের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউই আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর পশ্চিম লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত ময়নাতদন্ত ও বিষক্রিয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে জানা গেছে, মৃত্যুর সময় প্রিন্সের শরীরে স্বাভাবিক মাত্রার প্রায় তিন গুণ বেশি অ্যালকোহল ছিল। পাশাপাশি তাঁর শরীরে পার্টি ড্রাগ হিসেবে পরিচিত গামা-হাইড্রোক্সিবুটাইরেট (জিএইচবি), ক্যানাবিস (গাঁজা), জ্যানাক্স এবং একাধিক ব্যথানাশক ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, প্রিন্স আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও জ্যানাক্স সেবনে আসক্ত ছিলেন। মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের ব্যয়বহুল ‘প্রায়োরি ক্লিনিকে’ চিকিৎসা নেন। সেখানে প্রতি সপ্তাহে তাঁর চিকিৎসা ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫২ লাখ টাকা)। পরে তিনি মার্সিসাইডের ‘রেইনফোর্ড হল’ নামের আরেকটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স আবদুল্লাহ ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ম্যারিয়ট হোটেলে একটি কক্ষ বুক করেন। মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে শেষবারের মতো বাইরে গিয়ে ধূমপান করতে দেখা যায়। পরদিন হোটেলের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী পঞ্চম তলার একটি কক্ষের তালাবদ্ধ বাথরুমে জামাকাপড় পরা অবস্থায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে প্যারামেডিক কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহকারী করোনার জিন হারকিন আদালতে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে প্রিন্সের কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। এসব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি বলেন, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়; বরং অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের ফলে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।
প্রিন্স আবদুল্লাহ সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ সালমানের এক প্রপিতামহের বংশধর ছিলেন।