যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণা দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প: (রয়টার্স, হোয়াইট হাউস, ২০২৫)
হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন। তিনি বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যা মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতিতে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। ৩৭% শুল্ক হার দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন কম্বোডিয়া (৪৯%) এবং শ্রীলঙ্কার (৪৪%) পরে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে: কম্বোডিয়া: ৪৯%, শ্রীলঙ্কা: ৪৪%, বাংলাদেশ: ৩৭%, ভিয়েতনাম: ৪৬%, চীন: ৩৪%, ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০%।
বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই বৈশ্বিক বাণিজ্য বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যেসব দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
- চীন: দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির লক্ষ্যবস্তু হওয়া চীন এবার ৩৪% শুল্কের মুখোমুখি।
- ভিয়েতনাম: গার্মেন্টস ও ইলেকট্রনিক রপ্তানিতে শীর্ষস্থানীয় এই দেশটির ওপর ৪৬% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
- ইইউ: তুলনামূলক কম ২০% শুল্ক দেওয়া হলেও জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো শিল্পপ্রধান দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশের জন্য কী প্রভাব পড়তে পারে?
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা। এই তালিকায় তৃতীয় সর্বোচ্চ শুল্ক হার পাওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগীদের ওপর আরও বেশি শুল্ক থাকলেও, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের মূল্য সুবিধা আগেই হ্রাস পেয়েছে। নতুন শুল্কের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপ ও অন্যান্য বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছেন শিল্প নেতারা।
বিজিএমইএ-এর এক কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, “মার্কিন বাজারে আমাদের পণ্যের দাম বাড়লে ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাবে। এখনই আমাদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং গুণগত মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।” এই শুল্ক যুদ্ধে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।