দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয় ভোরে উষা কীর্তনের মাধ্যমে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় প্রাতঃপ্রার্থনা, সৎসঙ্গ অধিবেশন এবং আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রা। দুপুরে চিলড্রেন সৎসঙ্গ, মাতৃসম্মেলন এবং বিকেলে ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘সঙ্গীতাঞ্জলি’ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রধান সৎসঙ্গ অধিবেশন শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের জন্য নিরামিষ প্রসাদ (ভাণ্ডারা) পরিবেশন করা হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয় ভোরে উষা কীর্তনের মাধ্যমে। ছবি: ওটিএন বাংলা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্ট সদস্য লুক গসলিং ওএএম, এমপি, পামারস্টনের মেয়র অ্যাথিনা পাসকো-বেল, নাইটক্লিফ ইলেক্টোরেটের প্রতিনিধি এড স্মেট, কাসুয়ারিনা ইলেক্টোরেটের এমএলএ রোডা প্যাটেল, ওয়াঙ্গুরি ইলেক্টোরেটের প্রতিনিধি অলি কার্লসন, হিন্দু সোসাইটি অব নর্দার্ন টেরিটরির (HSNT) সভাপতি কে. কৃষ্ণপ্রদীপ বিজয়ারাঘবন, ইন্ডিয়ান কালচারাল সোসাইটি অব নর্দার্ন টেরিটরির সভাপতি মানিক গৌড়া, পূজা অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্দার্ন টেরিটরির (PACANT) সভাপতি স্বাধীন পাল, সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ও ক্যাজুয়ারিয়ানা এলাকার সাবেক এমএলএ লরেন জেন মস, নাইটক্লিফের সাবেক স্পিকার ও সাবেক প্রতিনিধি জেন আগার্ড, জয়া শ্রীনিবাস, সৎসঙ্গ ওশেনিয়া, সিডনির এসপিআর (সহ-প্রতি ঋত্বিক) ড. সুবাস নন্দী, সৎসঙ্গ ওশেনিয়া, পার্থের এসপিআর গুরুচরণ প্রধান এবং সৎসঙ্গ ওশেনিয়া, মেলবোর্নের এসপিআর ধনরাজ ভট্টারাই।
আয়োজকরা জানান, শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবনদর্শন মানবপ্রেম, আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রবাসে বসবাসরত ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সৎসঙ্গ ওশেনিয়ার আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ভক্ত, অনুরাগী ও বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। ছবি: ওটিএন বাংলা
অনুষ্ঠানটি সৎসঙ্গ ওশেনিয়ার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও অঙ্গরাজ্যে অবস্থানরত ভক্তরা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
প্রবাসে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। তাঁদের মতে, শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুধু ভক্তদের এক আন্তরিক ও স্মরণীয় মিলনমেলাই নয়, বরং ভক্তি, সেবা, সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য বার্তাবাহক হিসেবে সকলের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিভাজন এবং নানা সংকটময় পরিস্থিতিতে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শ—মানবপ্রেম, আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ—অনুসরণ করা আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁরা তাঁর জীবনদর্শনের আলোকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবকল্যাণে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।