১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: প্রায় ১৯ বছর পর আগামী ১ আগস্ট কলকাতায় ফিরছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ই-পাসপোর্ট ভোগান্তি লাঘবে বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টে কারিগরি জটিলতা, সীমিত স্লট এবং নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে না পারার অভিযোগের পর এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের প্রথম দিনেই পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করেছেন।
দূতাবাস সম্প্রতি ই-মেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইটনির্ভর অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে। তবে একযোগে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করায় অনেকেই সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ব্যর্থ হন। কেউ দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেননি, আবার কেউ ই-মেইলে আবেদন করার পরও দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলেন।
এই পরিস্থিতির কারণে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। বিশেষ করে প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন এবং অন্যান্য জরুরি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সীমা সামনে থাকায় অনেক প্রবাসী চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তির মুখে পড়েন।
প্রবাসীদের এসব সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রথম ধাপে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট, এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দিনগুলোতে কোনো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে থাকা আবেদনকারীরা দ্রুত সেবা পেতে পারেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিল জানান, বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করা ব্যক্তিদের আবেদনও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।
অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটে প্রবেশ করায় সাময়িক কারিগরি সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আইটি টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে, যাতে অনলাইন ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য, কার্যকর এবং প্রবাসীবান্ধব করা যায়।
বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পুরো কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দূতাবাসের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে তাদের প্রত্যাশা, বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুধু সাময়িক উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে নিয়মিত চালু থাকবে। পাশাপাশি একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য করা এবং কনস্যুলার সেবায় প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রবাসীদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au