১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: প্রায় ১৯ বছর পর আগামী ১ আগস্ট কলকাতায় ফিরছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: ‘আজাদি’ বা দেশবিরোধী স্লোগান তুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিটি রোডে কার্গিল শহিদ কণাদ ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় প্রকাশ্যে ভারত ভাঙার বা কাশ্মীর বিচ্ছিন্ন করার স্লোগান দিলে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁর মন্তব্য, এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে অভিযুক্তরা সহজে স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরতে না পারেন।
শমীকের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ‘চরমপন্থা’ বা র্যাডিকালাইজেশন মাথাচাড়া দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক শক্তি ‘আজাদি’ স্লোগান তুলে এবং ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘‘ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে’ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’’
গত শুক্রবার নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনের জেরে ধর্মতলায় ছাত্র-যুবদের মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে শমীক অভিযোগ করেন, ওই কর্মসূচিতে পুলিশ, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক ঘটনাও উল্লেখ করে বলেন, দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
তবে শমীকের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও কালীঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার মুখে এ ধরনের বক্তব্য শোভা পায় না।
কুণাল বলেন, ‘‘যাঁরা দেশবিরোধী কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা হোক। কিন্তু কাউকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলা নৈরাজ্যের শামিল। পুলিশ আছে, আদালত আছে। আইন মেনেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তাই বলে কাউকে ধরে মারধর করার নির্দেশও গণতান্ত্রিক দেশে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ছাত্র-যুবদের মিছিল ঘিরে ধর্মতলা ও ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর পুলিশ একাধিক জনকে গ্রেপ্তার করে এবং নতুন গুন্ডাদমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। প্রশাসন আগেই জানিয়েছিল, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই আবহেই শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au