বরিশাল বিভাগজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার, বদলে যাচ্ছে সংক্রমণের চিত্র
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: পরপর দুই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুরোপুরি শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন কলেজ শিক্ষার্থী পলাশ। বরগুনার বেতাগী থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে আনা…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা অভিযোগ করেছেন, ইরানের মতো লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চায় হুতি বিদ্রোহীরা। তার দাবি, এমনটি হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি, উভয়ই বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আফরাহ আল-জৌবা বলেন, হুতি বিদ্রোহীরা ইরানের হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নেওয়া কৌশল অনুসরণ করছে। তাদের লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, হুতিদের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুর্বল প্রতিক্রিয়ার কারণেই সংগঠনটি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের অভাব হুতিদের আরও সাহসী করে তুলেছে এবং তারা এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আরও বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন এবং ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রোববার এই নৌপথ দিয়ে মাত্র ১১টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত বহন করছে।
চলতি মাসের শুরুতে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। একই সময়ে তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালায়। এর জবাবে সৌদি আরব হুতি-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোদেইদায় বিমান হামলা চালায়।
আফরাহ আল-জৌবা জানান, ইয়েমেন সরকার সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং হুতি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সীমান্তজুড়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত গোলাগুলি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণমাত্রার কোনো নতুন সামরিক অভিযান শুরু হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হুতিরা এখনো রাজধানী সানাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা আবারও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au