গুলশান থেকে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি)…
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: বাংলাদেশের দুই সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রত্যাহার করে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
সোমবার (২৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানায়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। সংগঠনটি অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর প্রসিকিউশন বিভাগ সোমবার একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের নাম রয়েছে। মামলাটি ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে অভিযান সংক্রান্ত। ওই অভিযানে ৫৮ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এই মামলায় একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও সংবাদ উপস্থাপক ফারজানা রূপা এবং চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবুকে ১৪ মে গ্রেপ্তার করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, মোজাম্মেল বাবুর নির্দেশে ফারজানা রূপা শাপলা চত্বরের অভিযান নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের জন্য একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই প্রতিবেদনে শাপলা চত্বরে কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা তারা মিথ্যা হিসেবে দেখছে।
তবে সিপিজে বলেছে, সাংবাদিকতার কাজের অংশ হিসেবে তৈরি কোনো প্রতিবেদন বা সংবাদ পরিবেশনের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা গ্রহণযোগ্য নয়।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, “সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের কারণে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “কর্তৃপক্ষের উচিত এসব অভিযোগ প্রত্যাহার করা এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা বন্ধ করা।”
সিপিজে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হলে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবু মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। কারণ এই ট্রাইব্যুনালে নির্দিষ্ট অপরাধ অনুযায়ী সাজা নির্ধারণের আলাদা কোনো নির্দেশিকা নেই।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে দুই সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত পৃথক হত্যা মামলাতেও তাদের আসামি করা হয়েছিল। এসব মামলায় হাইকোর্ট তাদের জামিন দিলেও পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই আদেশ স্থগিত করেন।
সিপিজে বলেছে, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার কারণে তাদের কারাগারে রাখা সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ।
সুত্রঃ সিপিজে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au