নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: পটুয়াখালীতে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২২ জুলাই ভুক্তভোগী নারী পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি হিসেবে মো. শহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, প্রায় সাত বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর তিনি তার একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় থেকেই শহিদুল ইসলাম বিভিন্নভাবে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে ওই নারী এসব প্রস্তাবে রাজি না হলেও পরে শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। তিনি ভুক্তভোগীকে জানান, তার বোনও তাকে দেখাশোনা করবেন এবং বিয়ের পর সংসার করবেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, তিনি গর্ভের সন্তান রাখতে চাইলেও অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তা নষ্ট করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ মে চিকিৎসার কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ওষুধ খাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই ওষুধ সেবনের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশনার কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au