অবসরের দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: অবসরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬)…
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, সহিংসতা ও বিচারহীনতার চিত্র তুলে ধরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে ৮২৪টি নথিভুক্ত ঘটনার একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (HRCBM)। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলা এবং ৮টি প্রশাসনিক বিভাগের বিস্তৃত এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা এবং বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে নথিভুক্ত ৮২৪টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ২৩৪টি ভূমি দখল, সম্পত্তি আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ২২৩টি অপহরণ ও শারীরিক হামলা, ১৬৮টি হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু, ১৪১টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর, ৪১টি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, এবং ১৭টি ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত ঘটনা।
জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত “The Persecution Continues: Minority Communities Under Sustained Attack in Bangladesh (January–June 2026)” শীর্ষক ২৫৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে সংগঠনটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় স্বাক্ষর করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এটি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষক, জেলা ও উপজেলা সমন্বয়কারী, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং স্বাধীন যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় জ্যোতি বাছাড়, সমন্বয়কারী আশীষ কুমার অঞ্জন এবং রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী দেবীচরণ রায়ের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে নথিভুক্ত ৮২৪টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ২৩৪টি ভূমি দখল, সম্পত্তি আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ২২৩টি অপহরণ ও শারীরিক হামলা, ১৬৮টি হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু, ১৪১টি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর, ৪১টি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, এবং ১৭টি ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত ঘটনা।
প্রতিবেদনটি বলছে, এই ঘটনাগুলোকে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ বা স্থানীয় বিরোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনটির মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের সহিংসতা, ভয়ভীতি, ধর্মীয় নিপীড়ন, ভূমি দখল এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার পুনরাবৃত্তি একটি বৃহত্তর কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে বিচারহীনতা বন্ধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের আহ্বান।
এইচআরসিবিএম বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের রহস্যজনক মৃত্যু, বিশেষ করে ঝুলন্ত মরদেহ বা ভাসমান লাশ উদ্ধারের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায়। পাশাপাশি ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মব সহিংসতার প্রবণতা বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং তাঁর পরিবার, প্রতিবেশী, এমনকি স্থানীয় মন্দির বা উপাসনালয়ও হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হচ্ছে। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক সংখ্যালঘু কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার বহু ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অভিযোগ অনুযায়ী নিখোঁজদের অনেককে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া অনেকেই যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক কলঙ্ক, ভয়ভীতি, প্রতিশোধের আশঙ্কা, প্রশাসনিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সহযোগিতার ঘাটতি এবং বিচারহীনতার কারণে অনেক পরিবার অভিযোগ দায়ের করতেই নিরুৎসাহিত হয়।
এইচআরসিবিএমের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা এবং অন্যান্য যৌন সহিংসতার বহু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। ফলে প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৪১টি ঘটনা যাচাইকৃত সর্বনিম্ন সংখ্যা, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না করে দ্রুত ব্যক্তিগত শত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা সাধারণ অপরাধ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা বিচারের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ছে।

জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬-বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে বিচারহীনতা বন্ধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের আহ্বান।
সংগঠনটির মতে, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগের প্রবণতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এইচআরসিবিএম জরুরি ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ক্ষমতাসম্পন্ন জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, কমিশনের দায়িত্ব হবে—
এইচআরসিবিএমের মতে, শুধুমাত্র নতুন ঘটনার বিচার নয়, অতীতের ঘটনাগুলোরও সত্য উদঘাটন, বিচার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার ও ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (HRCBM)।
প্রতিবেদনে কেবল বিচার নয়, ট্রানজিশনাল জাস্টিস (Transitional Justice) বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এইচআরসিবিএম বলছে, বহু বছরের বিচারহীনতা, পুনরাবৃত্ত সহিংসতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে কেবল ফৌজদারি বিচার যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সত্য উদঘাটন, জবাবদিহিতা, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নিশ্চয়তা। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি সরকার, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং কূটনৈতিক অংশীদারদের ট্রানজিশনাল জাস্টিস কাঠামো বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
এইচআরসিবিএমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি রাষ্ট্রের শক্তি পরিমাপ করা হয় তার দুর্বল ও সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার মাধ্যমে।
সংগঠনটি মনে করে, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এইচআরসিবিএমের তিনটি প্রধান দাবি হলো—
১. নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করে দ্রুত তদন্ত;
২. অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা;
৩. ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রতিবেদনের শেষে এইচআরসিবিএম-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ধীমান দেব চৌধুরী বলেন,
“বেছে বেছে মানবাধিকার প্রয়োগ করা যায় না। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা একই সুরক্ষা, ন্যায়বিচার এবং মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য, যা বিশ্বের অন্যত্র দাবি করা হয়।”
এইচআরসিবিএমের মতে, একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে তার সংখ্যালঘু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, সমঅধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সক্ষমতায়। সংগঠনটি বলেছে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংসতা, বিচারহীনতা এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। বরং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন, অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে একটি স্বাধীন জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, ট্রানজিশনাল জাস্টিস কাঠামো বাস্তবায়ন এবং সকল নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবাধিকারসম্মত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের অপরিহার্য পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে এইচআরসিবিএম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au