বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…
মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে সমকামিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং মাস্টারদা সূর্য সেন হলে পৃথক দুটি ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, তদন্ত এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধিতে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিধিমালায় সমকামিতার জন্য আলাদা শাস্তির বিধান নেই
১৯৭৩ সালের ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ’ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। এ আদেশ এবং আবাসিক হল-সংক্রান্ত শৃঙ্খলাবিধিতে সমকামিতাকে আলাদা করে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ অভিযোগে নির্দিষ্ট কোনো শাস্তির বিধানও নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অতীতে এ ধরনের ঘটনা তেমনভাবে সামনে না আসায় শৃঙ্খলাবিধিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হয়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অসদাচরণ, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিনষ্ট বা আবাসিক হলের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সতর্কবার্তা, হল থেকে বহিষ্কার, সাময়িক বা স্থায়ী বহিষ্কারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সমকামিতার অভিযোগের জন্য পৃথক কোনো লিখিত শাস্তির বিধান নেই।
নীতিমালা করার ভাবনা প্রশাসনের
দুটি ঘটনার পর এ বিষয়ে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের কথা ভাবছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে এ ধরনের অভিযোগ হল প্রশাসনের মাধ্যমে দেখা হচ্ছে। তবে সমকামিতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় আলাদা কোনো শাস্তির বিধান নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন নীতিমালা তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করছে।
রাষ্ট্রীয় আইনে কী আছে
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধির বাইরে রাষ্ট্রীয় আইনেও এ বিষয়ে একটি বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় ‘প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে’ যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধারার প্রয়োগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
দুটি ঘটনায় যা ঘটেছে
প্রথম ঘটনাটি সামনে আসে গত ৩০ জুলাই মাস্টারদা সূর্য সেন হলে। হল প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এক আবাসিক শিক্ষার্থী হলের একটি কক্ষে সমকামিতার উদ্দেশ্যে এক বহিরাগতকে নিয়ে আসেন। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা তাঁদের আটক করেন। এরপর দুজনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীর হলের আসন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয় এবং তাঁকে আজীবন হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।হলের প্রাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় ‘নৈতিক স্থলনের’ ঘটনায় প্রাধ্যক্ষের বহিষ্কারের ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর মতে, সমকামিতার অভিযোগও নৈতিক স্থলনের আওতায় পড়ে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (১ আগস্ট) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ছাত্রশিবির নেতা ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দুই তরুণকে সমকামী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে এবং ক্ষমা চাইতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর হল প্রশাসন ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক আসন সাময়িকভাবে বাতিল করে এবং তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইব্রাহীম খলিল বলেন, ঘটনাটি তাঁর কক্ষে ঘটলেও বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না।
এদিকে তদন্ত চলাকালে রোববার সন্ধ্যায় শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে এবং তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au