ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরানের আকস্মিক হামলার আশঙ্কা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তাঁর ধারণা, বিশেষ…
মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’ স্টিভ আরউইনের তাঁর দলের উদ্দেশে দেওয়া শেষ আবেগঘন বার্তা। কুমির নিয়ে গবেষণার শেষ অভিযানে যাওয়ার আগে নিজের সহকর্মীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছিলেন তিনি।
২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কুইন্সল্যান্ডের কেপ ইয়র্ক উপদ্বীপের কাছে একটি স্টিংরে মাছের আঘাতে প্রাণ হারান স্টিভ আরউইন। মৃত্যুর ঠিক আগে ওয়েইপা এলাকায় কুমির নিয়ে গবেষণার শেষ অভিযানে ছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দলের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী বক্তব্য এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি।
স্টিভ আরউইনকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিলেন প্রযোজক জন স্টেইন্টন। তিনিও ওই অভিযানে আরউইনের দলের সদস্য ছিলেন।
দলের উদ্দেশে আরউইন বলেছিলেন, “আমি হৃদয় থেকে কিছু কথা বলতে চাই। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার জন্য দুঃখিত। তবে সত্যি বলতে, এই মাসটি ছিল আমার জীবনের সেরা সময়।”
তিনি আরও বলেন, “এ বছর আমি তোমাদের আরও অনেক বেশি এবং ভালোভাবে শেখাতে পেরেছি। কারণ আমি নিজেকে খুব ভালো অনুভব করেছি। সবকিছু নিজে করার চেষ্টা না করে এ বছর তোমাদের শেখাতে ও জ্ঞান ভাগ করে নিতে পেরে আমার খুব ভালো লেগেছে।”
নিজের দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে আরউইন বলেন, “তোমাদের সঙ্গে থাকার চেয়ে ভালো দল পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। তোমরা এবং আমার পরিবার, আমরা সবাই মিলে অসাধারণ একটি দল।”
ক্যামেরার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই ক্যামেরার মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে ঠিক দেখাতে পারব আমরা কী করি এবং আমরা যে কাজটি করি, তা নিয়ে কতটা গর্বিত।”
দলের সদস্যদের কুমির ধরার অভিজ্ঞতার কথাও আবেগের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “তোমাদের কুমিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং এর সঙ্গে যে সম্মান ও মর্যাদা জড়িয়ে আছে, সেটা অনুভব করতে দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে।”
জন স্টেইন্টন বলেন, আরউইন তাঁর কথাগুলো মন থেকেই বলেছিলেন। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল দলের প্রতি আরউইনের কৃতজ্ঞতা জানানোর এক আন্তরিক মুহূর্ত।
স্টেইন্টন বলেন, “তিনি যা বলেছিলেন, তার প্রতিটি কথাই তিনি সত্যি মন থেকে বলেছিলেন। এটা খুবই দুঃখের বিষয় যে, এভাবে কাউকে উদ্দেশ করে কথা বলার সেটিই ছিল তাঁর শেষ সময়।”
আরউইনের শেষ বক্তব্যের আরেকটি বিষয় স্টেইন্টনের কাছে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তা হলো, দলের প্রত্যেক সদস্যকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে ধন্যবাদ জানানো।
স্টেইন্টন বলেন, “আমি সাধারণত পর্দার আড়ালে থাকি। আমাকে সাধারণত দেখা বা শোনা যায় না। তাই বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই অসাধারণ ছিল। এটা এতটাই অবিশ্বাস্য যে আজও আমার মনে হয়, ‘বাহ!’”
স্টিভ আরউইনের আকস্মিক মৃত্যু অস্ট্রেলিয়াকে শোকাহত করেছিল। তবে তাঁর স্ত্রী টেরি, মেয়ে বিন্ডি এবং ছেলে রবার্টের জন্য সেই আঘাত ছিল আরও গভীর।

স্টিভ আরউইন তাঁর স্ত্রী টেরি, মেয়ে বিন্ডি ও ছেলে রবার্টের সঙ্গে। ছবি: এ কারেন্ট অ্যাফেয়ার (A Current Affair)
স্টেইন্টনের মতে, সন্তানরাই ছিল আরউইনের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। তিনি বলেন, “স্টিভের জীবনে সবচেয়ে ভালো যে ঘটনা ঘটেছিল, তা হলো সন্তানদের জন্ম। সন্তানরা তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। কারণ সে নিজেও ছিল বড় এক শিশু।”
আরউইনের মৃত্যুর পর মেয়ে বিন্ডি ও ছেলে রবার্ট দুজনেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কাজে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁদের সাফল্য দেখে যেতে পারেননি আরউইন। তবে সন্তানদের নিয়ে তিনি কতটা গর্বিত হতেন, সে বিষয়ে স্টেইন্টনের কোনো সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, “স্টিভ তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত হতেন। রবার্ট যেভাবে এগিয়েছে, তা দেখে তিনি অত্যন্ত গর্বিত হতেন।”
রবার্টের প্রাণী সংরক্ষণে আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন স্টেইন্টন। তাঁর ভাষায়, “সে প্রাণী সংরক্ষণে খুবই আগ্রহী। এটা দারুণ বিষয়, কারণ স্টিভও ঠিক এটাই চাইত।”
স্টেইন্টনের কথায়, “যতদিন রবার্ট এই কাজের সঙ্গে থাকবে, ততদিন স্টিভও বেঁচে থাকবে।”
সূত্র:নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au