শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার যে অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে ব্যক্ত হওয়া কোনো মতামতের দায়ও ভারত সরকার নেবে না বা সমর্থন করবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে মতবিনিময় সভার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার আয়োজন। এ আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি ওই অনুষ্ঠানে যে মতামতই প্রকাশ করা হোক না কেন, ভারত সরকার তার কোনোটি সমর্থন করে না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, নয়াদিল্লিভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এই অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। ফলে এটিকে ভারত সরকারের কোনো সরকারি কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গত বছর বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি তিনি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন বলে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানায় বাংলাদেশ। ঢাকার দাবি, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে সোমবার ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চ্যুয়াল ভাষণ এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি আলোচনা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ব্রিকসের প্রচলিত রীতিনীতি অনুসারেই এ আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সফর সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২০২৭ সালে বিমসটেকের ৩০ বছর পূর্তি এবং ওই বছর ঢাকায় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে এ আমন্ত্রণকে সময়োপযোগী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: এএনআই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au