শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে তাঁর পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত শফিউল হাসান উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পাশের জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। পাশাপাশি তিনি বদলগাছী উপজেলার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং কোলা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বৃষ্টির কারণে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই সুযোগে প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে মেয়েটি কৌশলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়িতে চলে যায় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা জানায়।
ঘটনার খবর মঙ্গলবার সকালে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলে হামলা চালায়। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, মেয়ের কাছ থেকে ঘটনাটি শোনার পর তাঁরা হতবাক হয়ে গেছেন। তিনি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান (ছনি) এবং বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম দাবি করেন, এর আগেও অভিযুক্ত শফিউল হাসানের বিরুদ্ধে নারী-সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল। তিনি বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি শফিউল কোলা ইউনিয়নের কাজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ সম্পাদনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর কাজির দায়িত্ব এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁকে কোলা ইউনিয়নের কাজির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিউল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এস এম রাশেদুল আলম অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, সম্প্রতি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, শফিউল হাসান যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিচার আইন-আদালতেই হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি শফিউল হাসানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় স্থানীয় লোকজনকে উসকে দিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় এসেছে। তাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au