উগ্র মৌলবাদ ও নারী: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- ইতিহাস কখনো কখনো নিজের সন্তানদের গিলে খায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে আন্দোলন জন্ম নিয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, নারীর সমান অংশগ্রহণের দাবিতে, সেই…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর ভাতিজি সাওইর্স কেনেডি হিলের মৃত্যুর ঘটনা। ২০১৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে মারা যাওয়া সাওইর্সের মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের দীর্ঘ নীরবতার মধ্যে ওই পোস্টে দুর্ঘটনাজনিত ফেন্টানিল ওভারডোজের কথা উল্লেখ করেন কেনেডি জুনিয়র। তবে পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুত মুছে ফেলা হয়।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। পোস্টটি ভুলবশত প্রকাশ করা হয়েছিল, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ ওপিওয়েড সংকট নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতেই তিনি এমন তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
কীভাবে সামনে এলো মৃত্যুর তথ্য
সাওইর্স কেনেডি হিল ছিলেন বোস্টন কলেজের যোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ম্যাসাচুসেটসের হায়ানিস পোর্টে কেনেডি পরিবারের বিখ্যাত বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওই বছরের শেষ দিকে প্রকাশিত টক্সিকোলজি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল দুর্ঘটনাজনিত ওভারডোজে। তাঁর শরীরে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ এবং অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে প্রাণঘাতী সিনথেটিক ওপিওয়েড ফেন্টানিলের বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে এতদিন প্রকাশ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয়নি।
কেনেডি জুনিয়রের এখন মুছে ফেলা পোস্টে সেই তথ্যই হঠাৎ সামনে আসে।

“প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। তবে তার আগেই এটি জনমনে এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক তীব্র আলোচনা ও নজরদৃষ্টি তৈরি করে। ছবি: গেটি/এএফপি/মারিও তামা।”
মৃত্যুর আগের রাত
সাওইর্সের মৃত্যুর আগের দিনটি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রবন্ধের কাজ শেষ করে তিনি তাঁর ৯১ বছর বয়সী দাদি এথেল কেনেডির সঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে দুজন মিলে ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাচনী বিতর্ক দেখেন।
এরপর বন্ধুদের সঙ্গে স্থানীয় একটি বারে যান সাওইর্স। সেখানে তাঁকে কারাওকে গান গাইতেও দেখা যায়।রাত শেষে ভোরের দিকে তিনি পরিবারের বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর একাই ব্যক্তিগত সৈকতে গিয়ে সূর্যোদয় দেখেন এবং আটলান্টিক মহাসাগরে সাঁতার কাটেন।

“২০১৯ সালের ১ আগস্ট ম্যাসাচুসেটসের হায়ানিস পোর্টে কেনেডি পরিবারের বাড়িতে মিস কেনেডি হিলকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে কেপ কড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ছবি: ফেসবুক/সামিট ইনসাইট পালস।
ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঘুমাতে যান। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, রাতে দেরি করে ঘুমানোর কারণে তাঁকে বিশ্রাম নিতে দেওয়া উচিত। তাই দুপুর প্রায় ১টা পর্যন্ত কেউ তাঁকে দেখতে যাননি।
পরে ঘুম থেকে না ওঠায় জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। তাঁকে দ্রুত কেপ কড হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ছিলেন সোচ্চার
জীবদ্দশায় সাওইর্স কেনেডি হিল মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য পরিচিত ছিলেন।
২০১৬ সালে ডিয়ারফিল্ড একাডেমিতে পড়ার সময় তিনি স্কুলের সংবাদপত্রে নিজের দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা এবং অতীতে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা প্রকাশ্যে লিখেছিলেন।

“তার মৃত্যু আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারটির দীর্ঘদিনের ট্র্যাজেডির ইতিহাসে আরও একটি হৃদয়বিদারক অধ্যায় যোগ করেছে। ছবি: রোলস প্রেস/পপারফোটো/গেটি।
তিনি লিখেছিলেন, তাঁর বিষণ্নতা মধ্যবিদ্যালয়ে পড়ার সময় শুরু হয়েছিল এবং জীবনের বাকি সময়ও এর সঙ্গে তাঁকে লড়াই করতে হবে। একই লেখায় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, মানুষ যখন ক্যানসার নিয়ে সহজে কথা বলতে পারে, তখন বিষণ্নতার প্রভাব নিয়ে কথা বলা এত কঠিন কেন।
কেনেডি পরিবারের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায়
সাওইর্সের মৃত্যুর পর কেনেডি পরিবারে গভীর শোক নেমে আসে। পরিবারের প্রবীণ সদস্য এথেল কেনেডি তখন বলেছিলেন, “আজ পৃথিবীটা একটু কম সুন্দর।”
কেনেডি পরিবারের ইতিহাসে একের পর এক মৃত্যু ও ট্র্যাজেডি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। সাওইর্সের মৃত্যুও সেই বেদনাদায়ক ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় হয়ে আছে।
তবে রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের মুছে ফেলা ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পর তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে নতুন করে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এত বছর পর ফেন্টানিলের বিষয়টি কেন প্রকাশ্যে এলো এবং কেন পোস্টটি এত দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলো।
সূত্র-নিউজ কম এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au