পরিবেশের চাপে ভারতে গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার প্রকল্প
মেলবোর্ন,৯ আগষ্ট: ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে গুগলের পরিকল্পিত ১৫ বিলিয়ন ডলারের ডেটাসেন্টার প্রকল্প নির্মাণ ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পানি সরবরাহ, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও নির্মাণ…
সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। শুক্রবার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তবে তেহরান সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করছে। তাঁর ভাষায়, অন্যান্য দেশের মতো ইরানেরও ভিন্ন ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অভ্যন্তরীণ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেই চ্যালেঞ্জগুলোর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম দিনের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মেয়ে, মেয়ের স্বামী ও নাতির নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আলী খামেনির মৃত্যুর পর ৮ মার্চ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবের মধ্যে পড়ে। মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পাশাপাশি আঞ্চলিক অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সম্পর্কের ওপরও চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লেও প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না ইরান, এমন বার্তাই দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, সব মুসলমান পরস্পরের ভাই। শিয়া ও সুন্নি বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য থাকা উচিত। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও ইরান তাদের সঙ্গে সমঝোতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
যুদ্ধের বিষয়ে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তাঁর দাবি, ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে বলেই সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে ইরানের অধিকার ও স্বার্থ নিশ্চিত করা গেলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানকে যদি জোর করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে দেশটি লড়াই চালিয়ে যাবে। ইরান পিছু হটবে না এবং মাথা নত করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে একই সময়ে যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় সচল করার বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। চীনকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশগুলোর উচিত নিজেদের স্বার্থ ও উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদাহরণ টেনে বলেন, দুই দেশ একে অপরের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। চীন নিজের অর্থনীতি ও শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়ায় প্রতিদিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এখন আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তেহরানের সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টাও যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au