ভারত থেকে ২.৩ টন কাঁদানে গ্যাস আমদানি করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁদানে গ্যাসের শেল আমদানি করা হয়েছে। সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে…
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট- ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আড়াই শতাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। টরন্টো থেকে রোম হয়ে ঢাকাগামী বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি রোমে অবতরণের পর ত্রুটি ধরা পড়ায় উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড করা হয়। এতে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী বেশিরভাগ যাত্রী বিমানবন্দরের ভেতরে আটকা পড়ে ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্ঘুম সময় কাটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাইম রানা। কানাডায় একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে দেশে ফিরছিলেন তিনি। রোম বিমানবন্দর থেকে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীরা চেয়ারেই বসে আছেন। দেশে কখন ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাচ্ছেন না তারা।
সাইম রানা বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা ঘুমহীনভাবে বিমানবন্দরে কাটাতে হচ্ছে। খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও থাকার জন্য কোনো বিছানা বা পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন অংশের চেয়ারে বসেই অনেকে ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। তার ভাষায়, পরিস্থিতি অনেকটা উদ্বাস্তু জীবনের মতো হয়ে গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, ফ্লাইট বিজি-৩০৬ টরন্টো-রোম-ঢাকা রুটে পরিচালনার সময় রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটিতে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু হয়।
ফ্লাইটটি রোমে অবতরণের পর প্রাথমিক পরিদর্শনেই ত্রুটি শনাক্ত করা হয়। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজটি না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ত্রুটি মেরামতের জন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগের একটি দল রোমের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি নিরসন করা সম্ভব হলে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তবে যাত্রীদের মধ্যে এ সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাইম রানা বলেন, যেই উড়োজাহাজে তারা এসেছেন, সেটি তখনও বিকল অবস্থায় ছিল। প্রকৌশলীরা এসে মেরামতের কাজ শেষ করার পরই ফ্লাইট ছাড়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, বিমান কর্তৃপক্ষ খাবারের ব্যবস্থা করলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী অনেক যাত্রীর থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ট্রানজিট ভিসা না থাকায় তাদের বিমানবন্দরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন অনুযায়ী ট্রানজিট ভিসা ছাড়া বিদেশি যাত্রীদের বিমানবন্দরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার স্থানীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের। ইতালির শেনজেন ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশি ও নেপালি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীরা প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করতে পারায় বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে হোটেলে যেতে পেরেছেন।
ফ্লাইটটিতে সাবেক ক্রিকেটার সৈয়দ হালিম শাহ ও তাঁর ছেলে জাতীয় দলের ফুটবলার সৈয়দ কাজেম শাহসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। দীর্ঘ সময় রোম বিমানবন্দরে আটকা পড়ে তারাও ভোগান্তিতে পড়েন।
সৈয়দ হালিম শাহ জানান, রোমে অবতরণের পর প্রায় আট ঘণ্টা যাত্রীদের উড়োজাহাজের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তখন রোমের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিমানের দরজা খোলা রাখা হলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছিল না। পরে উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড ঘোষণা করা হলে যাত্রীদের আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়।
তবে কানাডার নাগরিকত্ব থাকায় সৈয়দ হালিম শাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরের বাইরে গিয়ে হোটেলে থাকতে পেরেছেন। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বড় একটি অংশ তখনও বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হলেও যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই উড়োজাহাজটির যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের সাময়িক কষ্ট ও ভোগান্তি হচ্ছে, যার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তরিকভাবে দুঃখিত। স্থানীয় অভিবাসন আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে সব যাত্রীকে বিমানবন্দরের বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যাত্রীদের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। তবে দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে থাকা যাত্রীদের অভিযোগ, দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময় নিয়ে পরিষ্কার আশ্বাস না পাওয়ায় তাদের উদ্বেগ কাটছে না।
প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা ধরে ঘুম ও স্বাভাবিক বিশ্রাম ছাড়া বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে থাকা এসব যাত্রীর এখন একটাই প্রশ্ন, উড়োজাহাজটি কবে ঠিক হবে এবং তারা ঠিক কখন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে পারবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au