মুর্শিদাবাদে চার শিশুকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ, নিহত ৩, সংকটাপন্ন ১
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতিতে চার শিশুর ওপর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে হামলার ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক শিশু…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট: ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ পরিবর্তনকে তিনি ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক আগে যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে ভারতের পেছনে ছিল কিংবা কাছাকাছি অবস্থানে ছিল, তাদের অনেকেই এখন ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন।
সোনম ওয়াংচুক সতর্ক করে বলেন, বর্তমান ধারায় অগ্রগতি চলতে থাকলে ২০৪৭ সালে, অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময়, দেশটির বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। সম্প্রতি শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের দাবিতে যারা রাজপথে আন্দোলন করেছেন, তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনের ফলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও হয়েছে। তবে নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াংচুক বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিও পিছিয়ে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট করে বলেন, তার বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়। বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন এবং সরকারের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও বিভিন্ন সরকারের বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের অভিযোগ উঠেছে।
২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন তিনি। ওই আন্দোলনের পর দিল্লিতে সরকার পরিবর্তন হলেও দুর্নীতি ও অন্যায় পুরোপুরি দূর হয়নি বলে মন্তব্য করেন ওয়াংচুক। তার মতে, সময়ের সঙ্গে দুর্নীতি ও অন্যায়ের ধরন বদলেছে এবং তা আরও বড় আকারে মানুষের সামনে ফিরে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। আর সেই পরিবর্তনের পথ হিসেবে তিনি ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের’ কথা তুলে ধরেছেন।
সোনম ওয়াংচুকের মতে, ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো কীভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। তার ভাষায়, নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে এগিয়ে যেতে পারে।
তবে তিনি নীতিবান ও সৎ রাজনীতিকদের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের অনেক আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে যখন ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তখন দেশ কীভাবে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
ওয়াংচুক দাবি করেন, ভারতের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি আবারও বলেন, তার বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, ক্ষমতাসীন পক্ষ বা বিরোধী শিবিরকে লক্ষ্য করে নয়। তিনি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার কথা বলছেন।
ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সম্ভাব্য পথ খুঁজতে দেশের ‘সেরা মেধাবী মানুষদের’ একত্র করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তবে তিনি শুধু বুদ্ধিজীবী বা শিক্ষাবিদদের খুঁজছেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন।
তার প্রয়োজন এমন মানুষ, যারা নিঃস্বার্থ, নীতিবান এবং চরিত্রবান। এ ধরনের ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করে ভারতের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর ধারণা তৈরি করতে চান তিনি।
বর্তমানে লাদাখে অবস্থান করা ওয়াংচুক ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে এমন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, দেশের ভবিষ্যতের জন্য যারা সত্যিকার অর্থে কাজ করতে পারেন, তাদের সামনে আনা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরাসরি মানুষের মতামত জানতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক দেশের মানুষের প্রতি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারতের ভবিষ্যতের জন্য নতুন চিন্তা ও নতুন নেতৃত্বের পথ খুঁজে বের করতে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au