স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে একের পর এক বোমা হামলার হুমকি, হাই অ্যালার্ট
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের এক দিন আগে রাজধানী দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলার হুমকি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকালে…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতিতে চার শিশুর ওপর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে হামলার ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক শিশু মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সুতির একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুদের মধ্যে মণিফা খাতুনের বয়স ৫ বছর, ইসরাত পারভিনের ১১ বছর এবং আনিসা খাতুনের বয়স ৭ বছর। আহত ৬ বছর বয়সী নুসরত জাহানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ২১ বছর বয়সী গোলাম সারওয়ার নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত হাঁসুয়াটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে চার শিশু বাড়ির উঠোনে খেলছিল। এ সময় গোলাম সারওয়ার তাদের কাছে গিয়ে একজন শিশুকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর হঠাৎ করে তিনি ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে শিশুদের ওপর হামলা চালান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার আগে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্য শিশুরা বিষয়টি দেখে ফেলায় তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে পুলিশ এখনো যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘটনাস্থলেই একটি শিশু মারা যায়। বাকি তিন শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নুসরত জাহানকে পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চার শিশুর মধ্যে তিনজন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপরজন প্রতিবেশী।
ঘটনার কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে তদন্তে গোলাম সারওয়ারের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতেন। তদন্তকারীরা তার ঘর থেকে একাধিক বিষণ্নতা প্রতিরোধী ওষুধ ও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন উদ্ধার করেছেন।
অভিযুক্তের বাবার দাবি, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং বহরমপুরে তার চিকিৎসা চলছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহ শেখও দাবি করেছেন, গোলাম মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে নিহত এক শিশুর পরিবারের সদস্যরা এ দাবিকে অস্বীকার করে অভিযুক্তের পরিবারের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ অবশ্য এখনই ঘটনাটিকে শুধু মানসিক সমস্যার কারণে সংঘটিত বলে ধরে নিতে চাইছে না। পুরোনো পারিবারিক বিরোধ, আকস্মিক উত্তেজনা কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া হতে পারে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মাদকাসক্ত ছিলেন এমন কোনো প্রাথমিক প্রমাণ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কী বলছে
মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার শচীন মক্কার জানিয়েছেন, ঘটনার পর গোলাম সারওয়ার নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। শিশুদের ওপর হামলার পেছনে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা, পারিবারিক বিরোধ, মানসিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, গুরুতর আহত শিশুটিকে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। তার মাথা ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুই শিশুকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। তাদের শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তবে শিশুদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ এখনো চিকিৎসা পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর আহত শিশুদের স্থানীয় হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো বা ‘রেফার’ করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পাওয়া গেলে আহত শিশুদের মধ্যে অন্তত দুজনকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে বড় হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজ্য সরকার এর আগে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় রেফার ঠেকাতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছিল। তবে এই ঘটনায় রেফার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
এদিকে তিন শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত শিশুদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার প্রকৃত কারণ দ্রুত তদন্ত করে প্রকাশ করার দাবি উঠেছে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au